মিরাকল অব বার্ন: যে ম্যাচ বদলে দিয়েছিলো জার্মানির ইতিহাস

১৯৫৪ সালে জার্মানির প্রথম বিশ্বকাপ জয়
ফুটবল
এখন মাঠে
0

মাত্র ৮ মিনিটের ব্যবধানে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া। অতঃপর ফুটবল ইতিহাসে বড় অলৌকিক ঘটনা। ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরিকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়। আর এরই মধ্যে দিয়ে জাতি হিসেবে বদলে দেয় যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম জার্মানিকে।

রূপকথার গল্পে বাস্তবতার ছোঁয়া থাকে কমই। তবে ফুটবল ইতিহাস এমন এক বাস্তব রূপকথার সাক্ষী হয়েছিলো, যা রূপকথার গল্পকেও হার মানাতে বাধ্য। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে তেমনই গল্প রচনা করেছিলো পশ্চিম জার্মানি। কেবল ট্রফি জেতা নয়, যেটি বরং বদলে দিয়েছিলো পুরো দেশের ভাগ্য।

সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরে বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয় ৪ বছরে ৩১ ম্যাচে অপরাজেয় হাঙ্গেরি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত, আত্মমর্যাদা হারানো এক দেশ-পশ্চিম জার্মানি। গ্রুপপর্বে হাঙ্গেরি ৮-৩ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল জার্মানিকে।

আরও পড়ুন

ফাইনাল ম্যাচের শুরুটা হলো তারই ধারাবাহিকতায়। শুরুর ৮ মিনিটেই ২-০ তে পিছিয়ে জার্মানি। এরপরই বার্নের আকাশ ভেঙে নামলো বৃষ্টি। আর কাদা মাঠে রচিত হলো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর কামব্যাকের গল্প। ১৮ মিনিটের মধ্যেই দুই গোল পরিশোধ করে ম্যাচে ফেরে জার্মানরা। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে হেলমুট রানের সেই জাদুকরী গোল। আর তাতেই বিশ্বকে স্তব্ধ করে ৩-২ ব্যবধানে বিশ্বকাপ জিতে নেয় জার্মানি। জন্ম হয় দ্য মিরাকল অফ বার্ন বা বার্নের অলৌকিক কাহিনির।

দুর্দমনীয় হাঙ্গেরিকে হারিয়ে ভাঙাচোরা জার্মানির এ জয় পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। মাঠের সেই অবিশ্বাস্য জয় আর তার পেছনে থাকা এক সাধারণ পরিবারের আবেগ নিয়ে ২০০৩ সালে বিখ্যাত পরিচালক সোনকে ডর্টম্যান নির্মাণ করেন লিজেন্ডারি সিনেমা ডাস ওন্ডার ভন বা মিরাকেল অফ বার্ন। যে মুভির বিখ্যাত এক সংলাপ, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয় এটি কখনো কখনো একটি জাতিকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়।

পর্দায় এবং বাস্তবে এ জয় কেবল ফুটবল মাঠেরই ছিলো না। বিশ্বযুদ্ধের গ্লানি আর অপরাধবোধে ভুগতে থাকা জার্মান জাতি এ এক জয়ে ফিরে পেয়েছিলো তাদের হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস। এ ম্যাচটি ছিলো আধুনিক জার্মানির অর্থনৈতিক ও মানসিক পুনরুত্থানের ভিত্তি।

সেলুলয়েডের পর্দা থেকে ইতিহাসের পাতা-বার্নের সেই অলৌকিক গল্প আজও কোটি মানুষকে অনুপ্রেরণা জোগায়। প্রমাণ করে, শেষ বাঁশি বাজার আগে অন্তত হাল ছাড়তে নেই।

জেআর