স্টারমারের পর অ্যান্ডি বার্নহামকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে ক্ষমতায় বসার আহ্বান

লেবার পার্টির প্রার্থী অ্যান্ডি বার্নহাম
বিদেশে এখন
0

কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর সুশৃঙ্খল পন্থায় পরবর্তী নেতৃত্বের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন লেবার পার্টির এমপিরা। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে থাকা অ্যান্ডি বার্নহামকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে ক্ষমতায় বসার আহ্বানও জানিয়েছেন অনেক আইনপ্রণেতা। এদিকে জ্বালানি ও অভিবাসন ইস্যুতে দুর্বল নীতির কারণে স্টারমার পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন বলে কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প। আর ঘনঘন প্রধানমন্ত্রী পদে পরিবর্তন আসায় ক্ষুব্ধ লন্ডনবাসী।

ক্ষমতার পরিবর্তন যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রিটেনের রাজনীতিতে। ডেভিড ক্যামেরন থেকে কিয়ার স্টারমার, বেক্সিট পরবর্তী এক দশকের যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে থিতু হতে পারেনি কেউই।

সোমবার আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও, নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার আগ পর্যন্ত সরকারপ্রধানের দায়িত্ব সামলাবেন কিয়ার স্টারমার। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার পদত্যাগের পর ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটে প্রথমবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্টারমার।

একইদিনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে থাকা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গেও বৈঠক সারেন স্টারমার। বিবিসি বলছে, প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসা খুব একটা সহজ হচ্ছে না বার্নহ্যামের জন্য। কেননা এরইমধ্যে বার্নহ্যামকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আহ্বান জানাচ্ছেন লেবার পার্টির কিছু এমপি।

তবে, শেষমেশ কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে, আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছে অ্যান্ডি বার্নহাম। এদিকে, ঘনঘন প্রধানমন্ত্রী পদে পরিবর্তন আসায় ক্ষুব্ধ লন্ডনবাসী। তাদের অভিমত, আমলাতন্ত্রের জালে বন্দি রাজনীতিবিদরা।

ক্ষুব্ধ লন্ডনবাসীরা জানান, এটা বাড়াবাড়ি। আমার মনে হয় রাজনীতিবিদরা আমলাতন্ত্রের জালে বন্দি। তাদেরকে সবার সমর্থন আদায় করে চলতে হয়। যখন তারা ব্যর্থ হয়, তখন মেয়াদ শেষের আগেই সরে যেতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন:

অনেকে স্টারমারের পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও দ্বিমতও পোষণ করেন বেশ কয়েকজন।

লন্ডনবাসীরা জানান, স্টারমার জনপ্রিয় হোক বা না হোক, তিনি দেশে স্থিতিশীলতা এনেছেন। তিনি বেশ কিছু কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন। দেখা যাক পরবর্তী সরকার কতটুকু পরিবর্তন নিয়ে আসে।

এছাড়াও স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামকেও যোগ্য মনে করছেন অনেকে।

অন্যদিকে, স্টারমারের পদত্যাগের পর তাকে তুচ্ছ- তাচ্ছিল্য করতে ভুলেননি ট্রাম্প। জ্বালানি ও অভিবাসন ইস্যুতে দুর্বল নীতির কারণেই স্টারমার পদত্যাগ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও, ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দেয়ায় বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাজ্য দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলেও দাবি ট্রাম্পের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইউরোপের সুরক্ষার জন্য আমরা বছরের পর বছর ধরে ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু যখন আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল, তখন তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায় স্টারমার। এটি যুক্তরাজ্যের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।

এছাড়াও, স্টারমারের পদত্যাগের একদিন আগে ট্রাম্প আভাস দেন, ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াবেন স্টারমার।

ইএ