ইউরোপীয় ইউনিয়নের ছাড়ার ১০ বছর: ব্রেক্সিট সমর্থকদের চোখে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন ব্রিটিশ ভোটাররা।
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাজ্যের জনমত জরিপগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অধিকাংশ ব্রিটিশ নাগরিকের মধ্যে অনুশোচনা দেখা গেলেও, একটি বড় অংশ এখনো মনে করেন ১০ বছর আগের সেই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। তাদের মতে, ব্রিটেন হয়তো তার কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি, তবে ইইউ ত্যাগ করা ছিল একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট টোম্বস আল-জাজিরাকে বলেন, ‘ব্রেক্সিটের পক্ষে তখনকার যুক্তিগুলো এখনো একই আছে: সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং দেশের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া।’ ব্রেক্সিট সমর্থকদের মূল স্লোগানই ছিল ‘টেকিং ব্যাক কন্ট্রোল’ বা নিয়ন্ত্রণ ফিরে নেয়া। তারা মনে করেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপের একদল ‘বিচ্ছিন্ন অভিজাত’ শ্রেণির হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। টোম্বস মনে করেন, ব্রিটেন কখনোই ইইউ-তে খুব একটা সুখী ছিল না এবং দেশটির ঐতিহাসিক সম্পর্ক ইউরোপের চেয়ে ইংরেজিভাষী বিশ্বের সঙ্গেই বেশি গভীর।

তবে ব্রেক্সিটের পর অভিবাসন কমার যে আশা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা ঘটেনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের আমলে নিট অভিবাসনের সংখ্যা ২০১৯ সালের ২ লাখ ২৪ হাজার থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ৯ লাখ ৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে। থিঙ্ক ট্যাংক পলিসি এক্সচেঞ্জের ড্যাভিড গুডহার্ট বলেন, ‘আমরা অভিবাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু সেই স্বাধীনতাকে আমরা এটি বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করেছি।’ তিনি এই ব্যর্থতার জন্য পরবর্তী সরকারগুলোর অদূরদর্শিতাকেই দায়ী করেন।

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, ব্রেক্সিট সমর্থকরা মনে করেন তা সত্য হয়নি। গুডহার্ট বলেন, ‘ব্রেক্সিট অনেকে যেমন দাবি করেছিলেন তেমন অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনেনি। বরং ফিনটেক বা জিন এডিটিংয়ের মতো ক্ষেত্রগুলোতে ব্রিটেন ইইউ-এর রক্ষণশীল নিয়মনীতির বাইরে গিয়ে অনেক উন্নতি করেছে।’ অন্যদিকে ইন্সটিটিউট অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স-এর ক্রিশ্চিয়ান নিমিৎজ মনে করেন, সরকার ব্রেক্সিট পরবর্তী সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ‘অত্যধিক ভীতু’ ছিল। মুক্ত বাণিজ্য এবং বিধিনিষেধ শিথিল করার মাধ্যমে ব্রেক্সিটকে দেরিতে হলেও সফল করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

ব্রেক্সিট সমর্থকদের মতে, ১০ বছর পর বড় প্রাপ্তি হলো তাদের টিকে থাকা। অধ্যাপক টোম্বস ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এক সাক্ষাৎকারের উদাহরণ টেনে বলেন, আজ যদি ফ্রান্সের মানুষকে ইইউ ত্যাগের সুযোগ দেয়া হয়, তবে তারাও হয়তো একই পথ বেছে নেবে। তিনি বলেন, ‘ইউরোপের আর কাউকে এই সুযোগ দেয়া হয়নি, কিন্তু আমাদের দেয়া হয়েছিল এবং আমরা তা বেছে নিয়েছি।’

এএম