মুসলিম ভোটারদের আস্থা ফেরানোই বার্নহামের প্রধান চ্যালেঞ্জ

লেবার পার্টির প্রার্থী অ্যান্ডি বার্নহাম
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের হারানো মুসলিম ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আমলের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও গাজা ইস্যুতে অবস্থানের কারণে ব্রিটিশ মুসলিমদের একটি বড় অংশ লেবার পার্টি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনের এ তথ্য উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিয়ার স্টারমার মূলত কট্টর ডানপন্থি ও রক্ষণশীল ভোটারদের তুষ্ট করার কৌশল নিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, বামপন্থি ও মুসলিম ভোটারদের লেবার পার্টি ছাড়া যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। কিন্তু গত নির্বাচনে দেখা গেছে, মুসলিম প্রধান এলাকাগুলোতে লেবার পার্টির সমর্থন ৮০ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জেস্টোর সাউথ-এর মতো নিরাপদ আসনেও লেবার পার্টির প্রভাবশালী প্রার্থীরা স্বতন্ত্র ও গ্রিন পার্টির কাছে পরাজিত হয়েছেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বার্নহামের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে, লেবার মুসলিম নেটওয়ার্কের (এলএমএন) প্রধান আলী মিলানি বার্নহামের টিমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেতে পারেন। এছাড়া প্রথম ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি আবতিসাম মোহামেদকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। এমনকি গাজা ইস্যুতে যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিয়ে যারা স্টারমার সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, সেই নাজ শাহ ও অ্যান্ডি স্লটারদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে মুসলিম ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করতে পারেন বার্নহ্যাম।

ব্রিটিশ মুসলিমদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরাইলের ওপর পূর্ণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা। কাউন্সিল ফর অ্যারাব-ব্রিটিশ আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের (কাবু) দীর্ঘদিনের সমর্থক হিসেবে বার্নহাম মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। লেবার এমপি কিম জনসন বলেন, ‘অ্যান্ডি যদি হারানো ভোটারদের ফেরাতে চান, তবে তাকে গাজা ইস্যুতে সেই নৈতিক স্পষ্টতা দেখাতে হবে যা স্টারমারের ছিল না।’

পররাষ্ট্রনীতি ছাড়াও জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষা-স্বাস্থ্যের মতো অভ্যন্তরীণ ইস্যুগুলোও মুসলিম ভোটারদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহাম যদি গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারেন এবং জনগণের অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন, তবেই লেবার পার্টির হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

এএম