‘বেস্টিনেট’ প্রধান আমিনুলকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক আবেদন পায়নি মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল
দেশে এখন
3

বেস্টিনেট প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল ইসলামকে হস্তান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল।

গতকাল (মঙ্গলবার, ২৩ জুন) জাতীয় সংসদে লিখিত জবাবে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায়, কাউকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশকে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ১৯৯২ সালের প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে।’

সাইফুদ্দিন বলেন, ‘প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত সব আইনি শর্ত পূরণ হলে তবেই সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবে।’

তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দেশটির প্রত্যর্পণ আইন এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পাদিত প্রত্যর্পণ চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। তবে কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি না থাকলেও, প্রত্যর্পণ আইনের ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থায় প্রত্যর্পণ সম্ভব।

আরও পড়ুন:

ওই ধারায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ নির্দেশনা জারির ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, যদি কোনো বিদেশি রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করে।

দেশটির সুবাংয়ের সংসদ সদস্য ওং চেনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। ওং চেন বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে সহযোগিতার অগ্রগতি জানতে চেয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশ মালয়েশিয়া সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে আমিনুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছিল। অভিযোগ ছিলো, অর্থপাচার, চাঁদাবাজি এবং অভিবাসী শ্রমিক পাচার সংক্রান্ত তদন্তে তাদের প্রয়োজন।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দুই ব্যক্তি এমন একটি ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়েছে।

তবে আমিনুল ইসলামের আইনজীবী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একইভাবে ঢাকাভিত্তিক নিয়োগ প্রতিষ্ঠান ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুহুল আমিনও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, তার প্রতিষ্ঠান সবসময় আইনসম্মত, বৈধ ও নৈতিকভাবে পরিচালিত হয়েছে।


এফএস