ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের বাড়তি চাপ, পশুর হাট নিষিদ্ধ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
এখন জনপদে
0

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাড়তি যানবাহনের চাপ, দীর্ঘ যানজট, দুর্ঘটনা আর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মাঠে তৎপরতা বাড়িয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। মহাসড়ক ঘেঁষে পশুর হাট বসবে না। সড়কে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা নেই বলছে হাইওয়ে পুলিশ।

আনন্দের যাত্রা অনেক সময়ই বিষাদে রূপ নেয় সড়ক দুর্ঘটনা আর দীর্ঘ যানজটে। ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাড়তি যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়। মহাসড়ক সংলগ্ন বাজার, বাসস্ট্যান্ডগুলোতে এলোমেলো দাড়িয়ে থাকার কারণে তৈরি হয় কৃত্রিম যানজট, যা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গোমতী সেতুর টোল আদায়ে বিড়ম্বনায়ও বাড়ে যানজট।

চালকরা জানান, ড্রাইভারের কারণেও ভোগান্তি হয় আর টোল প্লাজার লোকের কারণেও ভোগান্তি হয়। হয়তো রোডে যদি কোনো গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। আর রোডের যদি কাজ করায়, এই সময়ে বেশিরভাগ যানজট হয়।

সড়কের অব্যবস্থাপনার ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয় যাত্রীদের। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ত্রুটিপূর্ণ সড়ক নকশা ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো দ্রুত সংস্কার জরুরি। পাশাপাশি সম্প্রতি মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা বাড়ায় উদ্বেগও বাড়ছে পরিবহন খাতে।

চট্টগ্রাম বিভাগ কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক এটিএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘দাউদকান্দি, ইলিয়াটগঞ্জ, গৌরীপুর, চান্দিনা, আপনি নিমসার, আপনি ক্যান্টনমেন্ট একটা টার্মিনাল দেখান। গাড়িটা ঢুকে টার্মিনালে নামাবে। গাড়ি থেকে একজন ফোন দেয়, দিয়ে বলে যে আমি আসছি। সিএনজি এসে মেইন রোডে থাকে, অটো থাকে।

আরও পড়ুন:

আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাফর উদ্দিন বলেন, ‘এই ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছু হোন্ডা, কিছু কার, মাইক্রো, বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সিএনজি, টমটম, নসিমন এগুলা কিন্তু হাইওয়েতে উঠি যায়। এইগুলার কারণে কিন্তু রোড হাইওয়েগুলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।’

কুমিল্লা ট্রাক-লরি কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ তুহিন বলেন, ‘রোডের ভিতরে চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে যে রাতে রড মারে, গাড়ির ভিতরে ডাকাতি করে, তারপর আমাদের ড্রাইভারগুলো খুব কষ্টে আছে।’

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও যানজট দ্রুত নিরসনে নেওয়া হচ্ছে কৌশলগত ব্যবস্থা। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন হাইওয়ে থানার কর্মকর্তা ও পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে হাইওয়ে পুলিশ।

হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘যেসব জায়গাগুলোতে যানজট হয়—বাজার-হাট, সেইসব এলাকাগুলোতেও আমরা স্টেট ফোর্স মোতায়েনের মাধ্যমে নির্বিঘ্ন যাত্রা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিয়েছি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাত্রার পথে মহাসড়কে যাতে ছোট যানবাহন বা থ্রি-হুইলার রাস্তায় না আসতে পারে, সে ব্যাপারে কঠোরভাবে দৃষ্টি রাখা হবে।’

প্রতিবছর ঈদে স্বস্তির যাত্রার আশ্বাস মিললেও কমছে না ভোগান্তি কিংবা দুর্ঘটনা। চাঁদাবাজি বন্ধ ও জনদুর্ভোগ ঠেকাতে কাজ করবে জেলা পুলিশও

ইএ