৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দিলে কারা করছাড় পাবেন, কারা পাবেন না

আয়কর
পরিষেবা
অর্থনীতি
2

বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা (Tax Return Filing) দিয়ে করছাড় সুবিধা (Tax Rebate) পাওয়ার সময় হাতে আছে আর মাত্র অল্প কিছুদিন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বা বুধবারের মধ্যে অনলাইন আয়কর রিটার্ন (Online E-TIN Tax Return) জমা দিলে নির্ধারিত নিয়মে করছাড় পাওয়া যাবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (National Board of Revenue - NBR) অর্থ বছরের বাজেটে এই নতুন নিয়ম চালুর পর সাধারণ করদাতাদের মনে করছাড়ের শর্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে (Income Tax Return Rebate Rules)।

আরও পড়ুন:

যেভাবে হিসাব করা হবে করছাড় (How to Calculate Tax Rebate)

প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী বুধবারের মধ্যে ই-রিটার্ন (E-Return) দাখিল করলে রিটার্ন জমার সময় প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড় সুবিধা মিলবে।

  • উদাহরণস্বরূপ: আপনার বার্ষিক করযোগ্য আয় (Taxable Income) ৭ লাখ টাকা হলে প্রথম ৪ লাখ টাকা করমুক্ত আয়ের সীমার মধ্যে পড়বে। অবশিষ্ট ৩ লাখ টাকার ওপর ১০% হারে প্রদেয় কর (Payable Tax) আসে ৩০ হাজার টাকা। আপনি যদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন জমা দেন, তবে ৩০ হাজার টাকার প্রদেয় করের ওপর ৫% অর্থাৎ ১,৫০০ টাকা করছাড় বা রিবেট পাবেন। ফলে আপনাকে ৩০ হাজার টাকার বদলে দিতে হবে ২৮,৫০০ টাকা।

কারা পাচ্ছেন না এই করছাড় সুবিধা? (Who Will Not Get Tax Rebate)

পুরো বছরের মোট করের (Total Tax Liability) ওপর এই ৫ শতাংশ করছাড় কার্যকর হচ্ছে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শর্তানুযায়ী, কেবল রিটার্ন দাখিলের সময় নগদে বা ব্যাংকে যে অবশিষ্ট প্রদেয় কর পরিশোধ করা হয়, তার ওপরই রিবেট প্রযোজ্য হবে।

  • উৎস কর ও অগ্রিম কর (Tax Deducted at Source - TDS & Advance Tax): যেসকল করদাতা সারা বছর ধরে ব্যাংক এফডিআরের মুনাফা (Bank FDR Interest), সঞ্চয়পত্রের মুনাফা (Savings Certificate Interest) বা অন্যান্য ব্যবসায়িক লেনদেনে আগাম উৎসে কর দিয়েছেন, তাঁরা ওই টাকার ওপর কোনো ছাড় পাবেন না।
  • পেরোল ট্যাক্স বা বেতনের অগ্রিম কর (Payroll Tax / Advance Tax on Salary): চাকুরিজীবী করদাতাদের প্রতি মাসের বেতন থেকে যে অগ্রিম আয়কর কেটে নেওয়া হয়েছে, তার ওপরও এই বিশেষ করছাড় কার্যকর হবে না।

সারা বছর স্বপ্রণোদিত হয়ে নিয়ম মেনে কর প্রদানকারীদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বাদ থাকায় সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও কর বিশ্লেষকদের মতে এটি কিছুটা বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন:

দেরিতে রিটার্ন দিলে জরিমানা কত? (Penalty for Late Tax Return Filing)

সময়মতো ই-রিটার্ন জমা না দিলে নির্ধারিত কোয়ার্টার বা প্রান্তিক অনুযায়ী জরিমানা গুণতে হবে:

  • প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর): পরিশোধযোগ্য করের ৫% বা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা ছাড় পাওয়া যাবে।
  • দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর): সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী মূল কর দিতে হবে, কোনো ছাড় বা জরিমানা থাকবে না।
  • তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ): প্রদেয় করের অতিরিক্ত ২% অথবা সর্বনিম্ন ৩,০০০ টাকা জরিমানা যুক্ত হবে।
  • চতুর্থ প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন): প্রদেয় করের অতিরিক্ত ৫% অথবা সর্বনিম্ন ৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, নির্দিষ্ট পাঁচ শ্রেণির করদাতা ব্যতীত দেশে থাকা টিআইএন (TIN Certificate) ধারীদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:






একনজরে: আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা, করছাড় ও জরিমানার হিসাব (Income Tax Return Rebate & Penalty Chart)

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রান্তিকভিত্তিক হিসাব

রিটার্ন জমার সময়সীমা (Timeline)

প্রদেয় করের ওপর সুবিধা / ছাড় (Rebate)

অতিরিক্ত ফি / জরিমানা (Penalty Rate)

প্রথম প্রান্তিক (জুলাই – সেপ্টেম্বর) ৫% বা সর্বোচ্চ ২৫,০০০০ টাকা ছাড় কোনো জরিমানা নেই
দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর – ডিসেম্বর) ধার্যকৃত নির্ধারিত কর প্রযোজ্য কোনো ছাড় বা বাড়তি ফি নেই
তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি – মার্চ) কোনো ছাড় নেই ২% বা সর্বনিম্ন ৩,০০০ টাকা অতিরিক্ত
চতুর্থ প্রান্তিক (এপ্রিল – জুন) কোনো ছাড় নেই ৫% বা সর্বনিম্ন ৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত

আরও পড়ুন:

অনলাইন আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম (How to File Online Income Tax Return BD), আয়কর রিটার্ন করছাড় হিসাব (Income Tax Rebate Calculation Bangladesh), ই-রিটার্ন সাবমিশন শেষ তারিখ (E Return Submission Last Date NBR), উৎসে কর ও অগ্রিম করছাড় নিয়ম (TDS and Advance Tax Rebate Rules), আয়কর না দিলে জরিমানা কত (Income Tax Late Filing Penalty BD)।

এসআর