তবে শুরুতে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন ‘জিরো রিটার্ন’ (Zero tax return BD) মানেই বেতন, ব্যাংক আমানত বা সম্পদের পরিমাণ শূন্য দেখানো নয়(Private job zero tax return online submission process BD)। কোনো রকম তথ্য গোপন না করে দেশের প্রচলিত কর আইন অনুযায়ী করযোগ্য আয় ও প্রদেয় কর হিসাব করেই সঠিক নিয়মে রিটার্ন দাখিল করতে হয়।
আরও পড়ুন:
কারা জিরো রিটার্ন দাখিলের যোগ্য? ২০২৬-২৭ করবর্ষের করমুক্ত আয়সীমা (Tax free income limit 2026-27 for private employees)
২০২৬-২৭ করবর্ষের (Assessment year 2026-27 BD) সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য সরকার নির্ধারিত করমুক্ত আয়ের সীমা নিচে তুলে ধরা হলো:
- সাধারণ পুরুষ করদাতা: ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয় করমুক্ত (Tax free income limit for males BD)।
- নারী ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব করদাতা: ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর মুক্ত (Tax limit for women and senior citizens BD)।
- প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা: ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড় সুবিধা পাবেন।
- গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত গেজেটভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধা’: ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারিত রয়েছে।
- প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবক: পিতামাতা বা অভিভাবক প্রতিটি প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা কর ছাড় পাবেন।
উক্ত নির্দিষ্ট করমুক্ত সীমার মধ্যে বার্ষিক আয় সীমাবদ্ধ থাকলে প্রদীয় করের পরিমাণ শূন্য (Zero tax) হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, মোট আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে নির্দিষ্ট অবস্থান ভেদে সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা ন্যূনতম কর (Minimum tax payment BD) প্রযোজ্য হতে পারে।
আরও পড়ুন:
অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করার ধাপসমূহ (Online eReturn submission step by step guide etaxnbr gov bd)
চলতি ২০২৬-২৭ করবর্ষে সকল সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন (eReturn portal BD) দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রিটার্ন দাখিলের আগে বেতন সনদ (Salary certificate), ব্যাংক হিসাব বিবরণী, বিনিয়োগ বা সঞ্চয়পত্রের তথ্য এবং উৎসে কর কাটার চালান হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন।
- ধাপ ১: পোর্টাল নিবন্ধন ও ই-রিটার্ন একাউন্ট সেটআপ: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিসিয়াল ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে (etaxnbr.gov.bd) প্রবেশ করে 'eReturn' অপশনে যান। নিবন্ধন করা না থাকলে এনআইডি বায়োমেট্রিক সিম ও ১২ ডিজিটের টিআইএন (TIN registration) দিয়ে ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।
- ধাপ ২: করবর্ষ ও আবাসন স্থিতি নির্বাচন: টিআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে 'Return Submission' অপশনে ২০২৬-২৭ করবর্ষ (আয়বর্ষ: ১ জুলাই ২০২৫ – ৩০ জুন ২০২৬) নির্বাচন করুন (Income tax return submission tax year 2026-27)।
- ধাপ ৩: চাকরি থেকে আয়ের বিবরণ প্রদান: 'Heads of Income' অপশনে গিয়ে 'Income from Employment' বা ‘Salary (others)’ চয়ন করুন। বেতন সনদ অনুযায়ী আপনার মূল বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার তথ্য ইনপুট দিন।
- ধাপ ৪: কর রেয়াত ও উৎসে কর কেটে নেওয়ার তথ্য: সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস বা জীবন বীমায় বিনিয়োগ থাকলে কর রেয়াতের (Tax rebate calculation BD) জন্য সেই তথ্য পূরণ করুন। বেতন থেকে পূর্বে কর কাটা হয়ে থাকলে তা 'Tax & Payment' অপশনে যুক্ত করুন।
আরও পড়ুন:
- ধাপ ৫: সম্পদ, দায় ও পারিবারিক ব্যয়ের তথ্য: করদাতা হিসেবে ব্যাংকে জমা টাকা, ফ্ল্যাট, জমি, গাড়ি ও ডিপিএসের তথ্যের পাশাপাশি যাবতীয় ঋণের (Assets and liabilities statement BD) তথ্য সঠিক হিসাব করে লিখুন।
- ধাপ ৬: হিসাব যাচাই ও ফাইনাল সাবমিশন: সমস্ত ডেটা পূরণের পর কর হিসাব দেখুন। কর প্রদেয় শূন্য দেখালে পুরো ফাইলটি ভালোভাবে যাচাই করে 'Submit' বাটনে চাপ দিন। সফল দাখিল শেষে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার ‘অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ’ (Acknowledgement slip download) এবং ‘ট্যাক্স সার্টিফিকেট’ ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।
উল্লেখ্য, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের জ্যেষ্ঠ নাগরিক, শারীরিকভাবে অসমর্থ, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ও মৃত করদাতার আইনি প্রতিনিধি ব্যতীত সকলের জন্যই ই-রিটার্ন পোর্টালের মাধ্যমে রিটার্ন জমা আবশ্যক।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:

