প্রাথমিকে ফিরছে লিখিত পরীক্ষা: অনুমোদনের অপেক্ষায় নতুন ‘মূল্যায়ন পদ্ধতি’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
দেশে এখন
শিক্ষা
0

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় (Primary Education System) বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি যাচাই করতে ‘ধারাবাহিক মূল্যায়নে’র (Continuous Assessment) পাশাপাশি পুনরায় ‘সামষ্টিক মূল্যায়ন’ (Summative Assessment) বা প্রথাগত লিখিত পরীক্ষা পদ্ধতি (New Primary Evaluation System 2026) চালু হতে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) এই নতুন মূল্যায়ন নির্দেশিকার খসড়া চূড়ান্ত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন ‘মূল্যায়ন পদ্ধতি ২০২৬’: একনজরে মূল তথ্যসমূহ

  • কার্যকর: চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।
  • মূল্যায়ন ধরণ: ‘ধারাবাহিক মূল্যায়ন’ (সারা বছরের কাজ) এবং ‘সামষ্টিক মূল্যায়ন’ (লিখিত পরীক্ষা) উভয়ই থাকবে।
  • পরীক্ষার ধরন: শুধু লিখিত নয়, প্রথমবারের মতো প্রতিটি বিষয়ে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
  • পাস নম্বর: সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০% এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য ৩৩%।
  • উপস্থিতি: পরবর্তী শ্রেণিতে উঠতে হলে অন্তত ৮৫% ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে।
  • পরীক্ষা মিস হলে: অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হবে।
  • গ্রেডিং পদ্ধতি: ফলাফল হবে ৪টি গ্রেডে— ক (অতি উত্তম), খ (উত্তম), গ (সন্তোষজনক) এবং ঘ (সহায়তা প্রয়োজন)।

আরও পড়ুন:

১৩ জানুয়ারি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (Final Decision on January 13)

আগামী ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং সচিবের উপস্থিতিতে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা (Review Meeting) অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ (Academic Session 2026) থেকেই এই নতুন পদ্ধতি কার্যকর হবে কি না।

নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য (Key Features of New Evaluation)

এনসিটিবি প্রণীত নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে কার্যকর শিখনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা (Written & Oral Exam): প্রথাগত লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ে বাধ্যতামূলক মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা (Practical Exam) যুক্ত করা হয়েছে।

উপস্থিতি বাধ্যতামূলক (Mandatory Attendance): পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীকে প্রতি প্রান্তিকে ন্যূনতম ৮৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে।

পাস নম্বর (Pass Marks): সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য পাসের ন্যূনতম নম্বর ৪০ শতাংশ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের (Special Needs Students) জন্য ৩৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রেডিং পদ্ধতি (Grading System): ফলাফল প্রকাশ করা হবে ৪টি গ্রেডে— ‘ক’ (অতি উত্তম), ‘খ’ (উত্তম), ‘গ’ (সন্তোষজনক) এবং ‘ঘ’ (সহায়তা প্রয়োজন)। যারা ৩৯ নম্বরের নিচে পাবে, তাদের মানোন্নয়নের জন্য বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:

শ্রেণিভিত্তিক নম্বর বিভাজন (Class-wise Mark Distribution)

নতুন খসড়া অনুযায়ী প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত নম্বর বিভাজনে (Mark Distribution) ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে:

শ্রেণিধারাবাহিক মূল্যায়ন (সারা বছর)সামষ্টিক মূল্যায়ন (পরীক্ষা)মোট নম্বর
১ম ও ২য় শ্রেণি৫০ নম্বর৫০ নম্বর১০০
৩য় থেকে ৫ ম শ্রেণি৩০ নম্বর৭০ নম্বর১০০

এনসিটিবি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পুনরায় লিখিত পরীক্ষা (Written Examination) নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

এসআর