১৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু, প্রজ্ঞাপন কবে?

শিক্ষা মন্ত্রণালয়
দেশে এখন
শিক্ষা
0

দেশের ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে (স্কুল ও কলেজ) প্রথম পর্যায়ে এমপিওভুক্ত করার প্রাথমিক প্রক্রিয়া (Initial process of MPO enlistment) শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে মূল্যায়িত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির বিষয়ে সম্মতি চেয়ে ইতিমধ্যে অর্থ বিভাগে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

আজ (রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ (Secondary and Higher Education Division) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এমপিওভুক্তির জন্য জমা পড়া আবেদনের বিবরণ
প্রতিষ্ঠানের স্তর (Category) আবেদনের সংখ্যা (No. of Applications)
নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক ২,০২৯ টি
উচ্চ মাধ্যমিক (কলেজ) ৬৮৭ টি
স্নাতক (পাস ও সম্মান) ৮৫৪ টি
স্নাতকোত্তর ৪৫ টি
মোট বিবেচিত প্রতিষ্ঠান ১,৭১৯ টি

আরও পড়ুন:

আবেদনের পরিসংখ্যান ও নীতিমালা (Application Statistics and Policy)

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ (MPO Policy 2025)’ অনুযায়ী আবেদন আহ্বান করা হলে মোট ৩ হাজার ৬১৫টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে:

  • নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়: ৮৫৯টি প্রতিষ্ঠান।
  • মাধ্যমিক পর্যায়: ১,১৭০টি প্রতিষ্ঠান।
  • উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়: ৬৮৭টি প্রতিষ্ঠান।
  • স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়: স্নাতক (পাস) ৪৪০টি, স্নাতক (সম্মান) ৪১৪টি এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৪৫টি প্রতিষ্ঠান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, নীতিমালায় নির্ধারিত মাপকাঠি, আঞ্চলিক সাম্য এবং গ্রেডিংয়ের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ১,৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম পর্যায়ে এমপিওভুক্তির জন্য বিবেচনাযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

যাচাই-বাছাই ও স্বচ্ছতা (Verification and Transparency)

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চূড়ান্ত তালিকা করার আগে আবেদনের সাথে দাখিলকৃত তথ্যাদি ভূমি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (DSHE), সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (National University) অনলাইন ডাটাবেজের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে সরেজমিনেও তদন্ত করা হবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এমপিওভুক্তির পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। কোনো অনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে (+৮৮০১৩৩৯-৭৭৪৫২৮) জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

চলমান প্রক্রিয়া (Ongoing Process)

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। নীতিমালার আলোকে যোগ্য হওয়া, প্রতিষ্ঠানের ঘনত্ব এবং সরকারের আর্থিক সামর্থ্য (Financial capacity) সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার না করতে সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির শর্তাবলী ও জেলা ভিত্তিক বন্টন প্রক্রিয়া

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১,৭১৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্ত করার প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। মন্ত্রণালয়ের ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েকটি নির্দিষ্ট মাপকাঠির (Criteria) ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

এমপিওভুক্তির প্রধান শর্তাবলী ও মাপকাঠি (MPO Enlistment Criteria)

এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ১০০ নম্বরের মধ্যে গ্রেডিং করা হয়। প্রধান শর্তগুলো হলো:

১. একাডেমিক স্বীকৃতির বয়স (Age of Academic Recognition): প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতির মেয়াদের ওপর ২৫ নম্বর বরাদ্দ থাকে। স্বীকৃতি যত পুরনো হবে, নম্বর তত বাড়বে।
২. শিক্ষার্থী সংখ্যা (Number of Students): কাম্য শিক্ষার্থী সংখ্যা থাকা বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে ২৫ নম্বর থাকে। এলাকাভেদে (মফস্বল, পৌরসভা ও মহানগর) শিক্ষার্থীর সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হয়।

৩. পরীক্ষায় পাসের হার (Result Success Rate): পাবলিক পরীক্ষায় (জেএসসি/এসএসসি/এইচএসসি) পাসের হারের ওপর ২৫ নম্বর থাকে। পাসের হার যত বেশি হবে, স্কোর তত বাড়বে।

৪. পরীক্ষার্থী সংখ্যা (Number of Examinees): পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর বাকি ২৫ নম্বর থাকে।

আরও পড়ুন:

জেলা ভিত্তিক সম্ভাব্য বন্টন ও সাম্য (District-wise Distribution)

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, শুধু নম্বর নয় বরং আঞ্চলিক সাম্য (Regional Equity) বজায় রাখা হবে। অর্থাৎ প্রতিটি উপজেলা ও জেলা থেকে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে যাতে কোনো অঞ্চল পিছিয়ে না থাকে।

এমপিওভুক্তির গ্রেডিং ও মানদণ্ড (১০০ নম্বরের বন্টন)
মানদণ্ড বা শর্ত (Criteria) বরাদ্দকৃত নম্বর (Marks)
একাডেমিক স্বীকৃতির বয়স (Academic Recognition Age) ২৫ নম্বর
কাম্য শিক্ষার্থী সংখ্যা (Required Student Enrollment) ২৫ নম্বর
পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা (Examinee Count) ২৫ নম্বর
পরীক্ষায় পাসের হার (Pass Percentage) ২৫ নম্বর
সর্বমোট স্কোর: ১০০ নম্বর

আরও পড়ুন:

এসআর