রাত এলেই আতঙ্ক বাড়ে আশুলিয়াবাসীর মাঝে। শাখা সড়ক, আবাসিক এলাকা কিংবা প্রধান সড়ক সর্বত্রই ডাকাত আতঙ্ক।
গত ২৮ ডিসেম্বর আশুলিয়া থানার পূর্ব ডেন্ডাবর এলাকায় এক প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে হানা দেয় ডাকাত দল। দ্বিতীয় তলার গ্রিল ও জানালা কেটে ভেতরে ঢুকে পড়ে তারা। সেসময় বাধা দিলে প্রবাসীর বাবাকে বেধড়ক মারধর করার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে এলাকাজুড়ে হইচই শুরু হলে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায় ডাকাত দল।
ভুক্তভোগী রহমত আলী বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে দরজা লাগানোর চেষ্টা করি কিন্তু দরজা লাগাতে পারি না। ডাকাত ঘরে ঢুকে আসে। এক পর্যায়ে তারা আমাকে আঘাত করে আমার মাথায় পিস্তল ধরে।’
তার ছেলে টিটু বলেন, ‘আমরা যখন চিল্লা-চিল্লি করেছি সবাই বুঝতে পারে। তখন তারা পালিয়ে যায়।’
একই রাতে কাছাকাছি সময়ে পূর্ব ডেন্ডাবরের গ্রীন সিটি এলাকার আরেকটি বাড়িতে সাত সদস্যের আরেকটি দল ডাকাতির চেষ্টা করে। এসময় নিরাপত্তাকর্মী বাধা দিলে তাকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে এলাকাবাসীর ধাওয়ায় অস্ত্র হাতে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
আরও পড়ুন:
নৈশপ্রহরী আবুল কালাম বলেন, ‘ডাকাত বলে চিৎকার দেয়া হয়েছে তখন আমি সামনে এসেছি। এ সময় তারা গুলি চালায় তাই ভয়ে আমি পিছিয়ে গেছি।’
দীর্ঘদিন ধরেই ডাকাত আতঙ্কে এ এলাকার পথচারীরাও। গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কে অন্তত ৩০টি যানবাহন থামিয়ে চলে গণ ডাকাতির ঘটনাও। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ১০০ থেকে ২০০ ফুট দূরেই পুলিশ অবস্থান করলেও তারা ছিল নির্বিকার।
স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝেই শুনি এ এলাকায় ছিনতাই হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ পুলিশ প্রশাসন জায়গামতো না থেকে পাশে থাকে গাড়ি চেক করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক মনির হোসেন সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেন।
অন্যদিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হাওলাদারও বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। গত ১৫ দিনে আশুলিয়া থানায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির অন্তত ৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।




