একনজরে নবম পে স্কেলের সম্ভাব্য রূপরেখা
- সুপারিশ চূড়ান্তের তারিখ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬।
- বেতনের অনুপাত: ১:৮ (সর্বনিম্ন : সর্বোচ্চ)।
- সম্ভাব্য সর্বনিম্ন বেতন: ১৬,০০০ - ২১,০০০ টাকা।
- প্রধান লক্ষ্য: বেতন বৈষম্য কমিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় সামঞ্জস্য করা।
বেতন কাঠামোর নতুন অনুপাত (New Salary Ratio 1:8)
গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত পূর্ণ কমিশনের সভায় বেতন বৈষম্য কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ (Salary Ratio 1:8) চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর বেতন ১ টাকা হলে, ১ম গ্রেডের কর্মকর্তার মূল বেতন হবে ৮ টাকা। এই অনুপাত নির্ধারণের ফলে সরকারি চাকরিতে নিচের দিকের গ্রেডগুলোর বেতন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন:
সর্বনিম্ন বেতন কত হচ্ছে? (Minimum Wage Proposals)
পে-কমিশনের কাছে সর্বনিম্ন বেতনের জন্য তিনটি ভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে:
- প্রথম প্রস্তাব: ২১,০০০ টাকা (21,000 BDT)
- দ্বিতীয় প্রস্তাব: ১৭,০০০ টাকা (17,000 BDT)
- তৃতীয় প্রস্তাব: ১৬,০০০ টাকা (16,000 BDT)
২১ জানুয়ারির চূড়ান্ত সভায় এই তিনটির মধ্যে যেকোনো একটিকে সর্বনিম্ন মূল বেতন (Basic Salary) হিসেবে চূড়ান্ত করা হবে। তবে সর্বোচ্চ বেতনের অংক এখনো নির্ধারিত হয়নি, কারণ বাড়ি ভাড়া (House Rent), চিকিৎসা ভাতা (Medical Allowance) এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কাজ এখনো চলমান।
আরও পড়ুন:
পে-কমিশনের শেষ প্রস্তুতি (Final Meeting of Pay Commission)
পে-কমিশনের এক সদস্য জানিয়েছেন, কমিশনের হাতে সময় খুব কম। তাই দ্রুততার সাথে সুপারিশগুলো তৈরি করা হচ্ছে। ২১ জানুয়ারির সভার আগেই আরও একটি ছোট সভা হতে পারে। সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই তা সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে। এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান ও বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
নবম পে স্কেল (9th Pay Scale) নিয়ে আপনার বর্তমান গ্রেড অনুযায়ী বেতন কতটা বাড়তে পারে, তার একটি খসড়া হিসাব নিচে দেওয়া হলো। মনে রাখবেন, পে-কমিশন এখনো চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেনি, তবে ১:৮ অনুপাত এবং সর্বনিম্ন বেতন ২১,০০০ টাকা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা থেকে এই গাণিতিক ধারণাটি তৈরি করা হয়েছে।
সম্ভাব্য নবম পে স্কেল: গ্রেড ভিত্তিক মূল বেতন কাঠামো
নিচে একটি তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হলো যেখানে বর্তমান (২০১৫ সালের স্কেল) এবং প্রস্তাবিত (২০২৬ সালের সম্ভাব্য স্কেল) মূল বেতনের পার্থক্য দেখানো হয়েছে:
গ্রেড পদের ধরন (উদাহরণ) বর্তমান মূল বেতন (২০১৫) প্রস্তাবিত মূল বেতন (২০২৬) সম্ভাব্য বৃদ্ধি ১ম সিনিয়র সচিব/সমমান ৭৮,০০০ (নির্ধারিত) ১,৬০,০০০ - ১,৬৮,০০০ প্রায় ১০০%+ ৫ম পরিচালক/উপ-সচিব ৪৩,০০০ ৯০,০০০ - ৯৫,০০০ প্রায় ১১০% ৯ম ১ম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা ২২,০০০ ৪৬,০০০ - ৫২,০০০ প্রায় ১১৫% ১০ম ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তা ১৬,০০০ ৩৫,০০০ - ৪০,০০০ প্রায় ১২৫% ১৩তম প্রধান সহকারী/হিসাব রক্ষক ১১,০০০ ২৫,০০০ - ২৮,০০০ প্রায় ১৩০% ১৬তম অফিস সহকারী/ড্রাইভার ৯,৩০০ ২১,৫০০ - ২৩,০০০ প্রায় ১৪০% ২০তম অফিস সহায়ক (MLSS) ৮,২৫০ ১৬,০০০ - ২১,০০০ প্রায় ১৫০%
আরও পড়ুন:
নবম পে স্কেল ২০২৬ নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: নবম পে স্কেলের সুপারিশ কবে চূড়ান্ত করা হবে?
উত্তর: নবম পে স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পে-কমিশনের শেষ ও চূড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশ্ন: নতুন পে স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত কত?
উত্তর: নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ১:৮। অর্থাৎ ২০তম গ্রেডের বেতন ১ টাকা হলে ১ম গ্রেডের বেতন হবে ৮ টাকা।
প্রশ্ন: নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন কত হতে পারে?
উত্তর: সর্বনিম্ন মূল বেতনের জন্য তিনটি প্রস্তাব করা হয়েছে— ২১ হাজার টাকা, ১৭ হাজার টাকা এবং ১৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২১ হাজার টাকা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
প্রশ্ন: সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা হতে পারে?
উত্তর: ১:৮ অনুপাত অনুযায়ী যদি সর্বনিম্ন বেতন ২১ হাজার টাকা হয়, তবে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
প্রশ্ন: ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন কত বাড়বে?
উত্তর: বর্তমানে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা। নতুন স্কেলে এটি সর্বনিম্ন ১৬,০০০ থেকে ২১,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি।
প্রশ্ন: নবম পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ কবে?
উত্তর: ২১ জানুয়ারি সুপারিশ জমা দেওয়ার পর সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশ্ন: বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতায় কি কোনো পরিবর্তন আসবে?
উত্তর: হ্যাঁ, মূল বেতন বাড়লে আনুপাতিক হারে বাড়ি ভাড়া বাড়বে। এছাড়া চিকিৎসা ভাতা বর্তমানের ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,৫০০-৩,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রশ্ন: প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য নতুন পে স্কেলে কী থাকছে?
উত্তর: প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী তাদের গ্রেড উন্নয়ন এবং বেতন বৈষম্য নিরসনের বিষয়টি এই পে স্কেলে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রশ্ন: পে স্কেল ফিক্সেশন (Fixation) কীভাবে হবে?
উত্তর: গেজেট প্রকাশের পর বর্তমান মূল বেতনের সাথে নতুন স্কেলের ধাপ মিলিয়ে অনলাইনে 'আইবাস++' (iBAS++) সিস্টেমের মাধ্যমে ফিক্সেশন সম্পন্ন করা হবে।
প্রশ্ন: ইনক্রিমেন্ট (Increment) বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি কত শতাংশ হবে?
উত্তর: বর্তমান ৫% ইনক্রিমেন্ট প্রথা বজায় থাকবে নাকি এটি বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে ২১ জানুয়ারির সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রশ্ন: বেতন বৈষম্য নিরসনে এই পে স্কেলের ভূমিকা কী?
উত্তর: ১:৮ অনুপাত কার্যকর করার মূল লক্ষ্যই হলো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নিম্নপদের কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান বেতনের বিশাল ব্যবধান কমিয়ে আনা।
প্রশ্ন: নতুন পে স্কেলে কি মহার্ঘ ভাতা মিশিয়ে দেওয়া হবে?
উত্তর: সাধারণত নতুন পে স্কেল ঘোষণার সময় আগের দেওয়া মহার্ঘ ভাতা মূল বেতনের সাথে সমন্বয় বা একীভূত করে দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: পেনশনারদের ক্ষেত্রে কি এই পে স্কেল প্রযোজ্য হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে নিয়ম অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধাও আনুপাতিক হারে বাড়বে।
প্রশ্ন: পে-কমিশনের সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী হাতে কত সময় আছে?
উত্তর: পে-কমিশনের সদস্যদের মতে হাতে সময় খুব কম, তাই তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে ২১ জানুয়ারির মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে চাচ্ছেন।
প্রশ্ন: নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের বাজেট কত লাগতে পারে?
উত্তর: বেতন দ্বিগুণ বা তার কাছাকাছি বাড়লে সরকারের রাজস্ব বাজেটে বড় ধরনের চাপ আসবে, তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এটি সামাল দেওয়ার জন্য আর্থিক পরিকল্পনা তৈরি করছে।





