অনলাইনে বেনামে ঘুষ চাওয়ার তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কোন সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির প্রবণতা বেশি, তার একটি উন্মুক্ত রেকর্ড বা পাবলিক লেজার (Public Ledger) তৈরি করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন:
কীভাবে কাজ করে ‘ঘুষ.সাইট’? (How Ghush Site Works)
‘ঘুষ.সাইট’ প্ল্যাটফর্মে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার ঝামেলা ছাড়াই মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে অনিয়মের অভিজ্ঞতা জমা দেওয়া যায়। অভিযোগ জানানোর পুরো প্রক্রিয়াটি নিচে তুলে ধরা হলো:
- ১. দপ্তর ও সেবার ধরন নির্বাচন (Select Department & Service): ভুক্তভোগীকে প্রথমে সরকারি দপ্তরের নাম, সেবার ধরন ও নিজ এলাকা নির্বাচন করতে হয়।
- ২. অর্থের পরিমাণ ও বিবরণ (Amount Demanded & Details): সেবার জন্য কত টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কী ঘটনা ঘটেছে, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ যুক্ত করতে হয়।
- ৩. গোপনীয়তা রক্ষা ও নীতি (Privacy Policy): ফর্মে কোনো ব্যক্তির নাম, পদবি বা ফোন নম্বর উল্লেখ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এতে ব্যবহারকারীর নাম-পরিচয় গোপন ও সুরক্ষিত থাকে।
- ৪. মডারেশন ও প্রকাশ (Moderation & Live Feed): অভিযোগ জমা হওয়ার পর মডারেশন টিম ব্যক্তিগত তথ্য বা আক্রমণাত্মক ভাষা বাদ দিয়ে তা পাবলিক লেজারে প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন:
প্রথম দুই দিনে জমা পড়েছে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ
চালু হওয়ার মাত্র দুই দিনেই ওয়েবসাইটটিতে ৮০৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যেখানে ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৪৩০টি অভিযোগ এসেছে ঢাকা থেকে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬৭, রাজশাহীতে ৪৪, খুলনায় ৪৩, সিলেটে ৩৮, রংপুরে ৩৭, ময়মনসিংহে ৩০ এবং বরিশালে ১৫টি অভিযোগ নথিবদ্ধ করা হয়েছে। ইতিবাচক তথ্য হলো, মোট অভিযোগকারীদের ১৮ শতাংশ ভুক্তভোগীই ঘুষ দিতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
অভিযোগ মানেই চূড়ান্ত প্রমাণ নয় (Disclaimer & Limit)
‘ঘুষ.সাইট’ কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে জমা পড়া অভিযোগগুলো এককভাবে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হয় না। প্রতিটি প্রকাশের সঙ্গে ‘আনভেরিফায়েড’ (Unverified) লেখা থাকে। এটি দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC)-এর বিকল্প নয়, কিংবা কোনো সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে আইনি প্রমাণ হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য নয়। মূলত সরকারি সেবায় নির্দিষ্ট ফাইল, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট বা নামজারির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার সাধারণ চিত্র ও হার সম্পর্কে নাগরিকদের আগাম ধারণা ও সচেতনতা দিতেই এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:



