বাড়ছে শিক্ষার্থীদের মানসিক সংকট; স্কুলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ভাবনা

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা
বিশেষ প্রতিবেদন
দেশে এখন
1

শিক্ষাজীবন নিয়ে হতাশা, পরীক্ষার চাপ, ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারে ইদানিং নানা ধরনের মানসিক সংকটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া পারিবারের প্রত্যাশা, সামাজিক অসমতাসহ আরও অনেক কারণে বাড়ছে বিষণ্ণতা। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানান, কাউন্সিলিংয়ের জন্য স্কুলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যাপারে ভাবছে সরকার।

জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস অর্জন, কাজের সুযোগ তৈরি করে জীবন ও সমাজ গঠনে শিক্ষার গুরুত্ব সীমাহীন। শিশু থেকে শৈশব, তারপর কৈশোরে নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দারিদ্র্য বিমোচন, জাতীয় উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে দেশের শিক্ষার্থীদের নানা চড়াই-উৎরাই ডিঙিয়ে এগিয়ে যেতে হয়।

এমন বাস্তবতায় মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষার মৌলিক অংশ হলেও দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় তা অবহেলিত হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। বিশ্বমানের গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য তাদের শেখার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মজীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব চাপ মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার বিষয়টি থেকে যাচ্ছে উপেক্ষিত।

শিক্ষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘মানসিক চাপ থেকেই তারা কিন্তু জীবনকে মনে করে যে তার জীবনটা অসহনীয়, যন্ত্রণাময়। এইখান থেকেই সে সরে আসতে চায়।’

শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ফ্রেন্ডের সঙ্গে শেয়ার করলে মনটা একটু হালকা হওয়া যায়। টিচার, ফ্যামিলি, বন্ধুবান্ধব যা আছে, তাদের সঙ্গে ডিসকাস করা দরকার—যেকোনো ব্যাপার নিয়ে।’

আরও পড়ুন:

এ বিষয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ, পরীক্ষাভীতি, হতাশা তৈরি হচ্ছে; দিন দিন বাড়ছে আত্মবিশ্বাসহীনতা। এর পেছনে পারিবারিক প্রত্যাশা, প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা, প্রযুক্তি নির্ভর জীবনযাপন ও সামাজিক অসমতা দায়ী।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুল, কলেজ কিংবা ইউনিভার্সিটিতে বর্তমানে আমরা দেখবো যে অনেক বেশি সাইবার বুলিং হচ্ছে। ডিপ্রেশনের কথা বলি, অ্যাংজাইটির কথা বলি, আমরা যদি কোনো একটা ট্রমা, স্ট্রেস, কনফ্লিক্ট—এগুলোর কথা বলি, এগুলো রাইজিং। তরুণদের মধ্যে বিশেষ করে এগুলো খুব বাড়ছে। এগুলো ডেফিনেটলি আমাদের জন্য ডিল করাটা কঠিন, বাট দেয়ার আর ওয়েজ যে আমরা প্রফেশনাল হেল্প নিয়ে এগুলো ডিল করতে পারি। এটা একটা মাল্টি-সেক্টোরিয়াল আমাদের অ্যাপ্রোচ নিতে হবে।’

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন, আচরণ সংশোধন ও কাউন্সেলিংয়ের উদ্দেশে স্কুলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যাপারে ভাবছে সরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা আলোচনা শুরু করেছি যে কি ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আমাদের শিক্ষকদের কি কাউন্সেলিংয়ের ট্রেনিং দেয়া যেতে পারে কি না, দেয়া গেলে কীভাবে করা যেতে পারে। একটা লোকালভিত্তিক, মানে উপজেলা বা এরকম লেভেলে বা ইউনিয়ন লেভেলে যে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো আছে, সেই জায়গাগুলোতে তারা সাইকিয়াট্রিস্ট বা সাইকোলজিস্টের ব্যবস্থা করতে পারেন কি না, যেটার অ্যাক্সেস আমাদের স্কুলগুলোতে আমরা দিতে সক্ষম হতে পারি—এই ধরনের আলোচনা আমরা শুরু করেছি।’

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগসহ ২০২৮ সালের মধ্যে সরকার জাতিকে একটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা উপহার দিতে চায় বলেও জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

এসএস

আরও পড়ুন:
এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর
No Article Found!