স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া বার্তা ও এসএমএস সেবা (Automated weather forecast SMS schedule)
কৃষি উৎপাদন পুরোপুরি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় অনিয়মিত বৃষ্টিপাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায়ই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা (Impact of weather on crop production Bangladesh):
- নিয়মিত ও জরুরি বার্তা: স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর এবং দুর্যোগের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে কৃষকদের মোবাইলে আবহাওয়ার আপডেট পাঠানো হবে (Weather forecast SMS every 6 hours Bangladesh)।
- কৃষির প্রস্তুতি: এই আগাম বার্তার সুবাদে কৃষকরা চাষাবাদ, সেচ প্রদান, সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ কিংবা ধান কাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আগাম সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন (Pre-harvest preparation and crop management using weather forecast)। যেমন ধান কাটার সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে আগেই ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে পারবেন তারা।
- বাস্তবায়নকারী সংস্থা: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস (Agricultural Information Service AIS) এই স্বয়ংক্রিয় বার্তা প্রেরণের কাজ বাস্তবায়ন করবে। এর ফলে প্রতিবার আলাদাভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস খোঁজার প্রয়োজন হবে না।
আরও পড়ুন:
কৃষক কার্ডের ১০ ধরনের সেবা ও ৪ বছরের লক্ষ্যমাত্রা (10 benefits of farmer card and 4-year project target)
আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পাশাপাশি কৃষক কার্ড কর্মসূচির (Farmer card program Bangladesh) আওতায় মোট ১০ ধরনের বিশেষ সরকারি সেবা দেওয়া হবে:
- প্রধান সুবিধাগুলো: আবহাওয়ার বার্তার পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ সুবিধা এবং কৃষি বীমাসহ মোট ১০ ধরনের সেবা পাবেন কার্ডধারীরা (Agri loan, input subsidy, and insurance with farmer card)।
- ৪ বছরের লক্ষ্যমাত্রা: আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার (Target to bring 2.4 crore farmers under card program)।
- সমন্বিত তথ্যভান্ডার: সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় এনে তাদের কাছে সরকারি সহায়তা ও সেবা সহজে পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য কৃষকদের ব্যক্তিগত ও কৃষিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বর্তমান অগ্রগতি, পাইলট কার্যক্রম ও প্রণোদনা বিতরণ (Current progress, pilot project and cash incentives)
কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে দেশব্যাপী কাজ এগিয়ে চলছে (PARTNER project farmer card implementation BD):
- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কার্যক্রম: চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ এবং কৃষক কার্ডের জন্য ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।
- উদ্বোধন ও পর্যায়ক্রমিক বিস্তার: গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- প্রাক-পাইলট পর্ব ও প্রণোদনা: এর আগে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলট কার্যক্রমে আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। এ সময় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা (Official statements and future plans)
প্রকল্পের উপপরিচালক মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও তাদের চাহিদা নিরূপণের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা দেওয়ার কাজ চলছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে উঠলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজ করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
কৃষি সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগ সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর মাধ্যমে আবহাওয়ার তথ্য বিবেচনায় নিয়ে কৃষকরা চাষাবাদের পরিকল্পনা করতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে পারবেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
আরও পড়ুন:





