আরও পড়ুন:
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাস ও যাত্রাপথ (Ballon d'Or history and origin)
১৯৫৬ সালে স্বনামধন্য ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ (France Football magazine)-এর উদ্যোগে ইউরোপের সেরা ফুটবলারদের সম্মানিত করার উদ্দেশ্যে এই পুরস্কারের যাত্রা শুরু হয়। প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার স্ট্যানলি ম্যাথুস (Stanley Matthews first Ballon d'Or winner)।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরস্কারটির পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে:
- ১৯৯৫ সাল: ইউরোপের বাইরের খেলোয়াড়দের জন্যও এই পুরস্কারের দরজা উন্মুক্ত করা হয়।
- ২০০৭ সাল: বিশ্বের যেকোনো দেশের পেশাদার ফুটবলারদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়।
- ২০১০-২০১৫: এই সময়ে ফিফার ব্যক্তিগত পুরস্কারের সঙ্গে একীভূত হয়ে এটি ‘ফিফা ব্যালন ডি’অর’ নামে পরিচিত ছিল।
- ২০১৮ সাল: নারী ফুটবলারদের জন্য ‘নারী ব্যালন ডি’অর’ (Women's Ballon d'Or) চালু করা হয়।
আরও পড়ুন:
সোনার বলটির উপাদান ও আসল দাম কত? (Ballon d'Or trophy material and actual cost)
সোনালী ঝলক দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে ব্যালন ডি’অর বুঝি পুরোপুরি খাঁটি সোনার তৈরি (Is Ballon d'Or made of pure gold)। বাস্তবে এর পেছনের কারিগরি সম্পূর্ণ ভিন্ন:
- নির্মাণশৈলী: ফ্রান্সের বিখ্যাত গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘মেলেরিও’ (Mellerio jewelers) এই ট্রফি তৈরি করে থাকে। একটি ট্রফি তৈরিতে প্রায় ১০০ ঘণ্টা সময় লাগে এবং হস্তান্তরের ছয় মাস আগে এর কাজ শুরু হয়।
- উপাদান: ট্রফির বলের আকৃতি দিতে পিতলের দুটি অর্ধগোলক ব্যবহার করা হয়। এরপর ফুটবলের প্যানেলের অনুকরণে ৩২টি খোদাই করা অংশ ফুটিয়ে তোলা হয়। সবশেষে ট্রফির ওপর খাঁটি সোনার প্রলেপ (Gold plating on Ballon d'Or) দেওয়া হয় এবং পাইরাইট পাথরের ভিত্তির ওপর এটি স্থাপন করা হয়।
- আকার ও ওজন: ট্রফিটির উচ্চতা প্রায় ৩১ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ২৩ সেন্টিমিটার এবং এর মোট ওজন ১০ কেজির বেশি।
- বাজারমূল্য: বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্রফিটি তৈরিতে আনুমানিক ৩ হাজার ইউরো (Ballon d'Or trophy manufacturing cost in Euros) খরচ পড়ে। ফুটবলের সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে এর ভাবমূর্তি আকাশছোঁয়া হলেও এর বস্তুগত উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম।
আরও পড়ুন:
ব্যালন ডি’অর জিতলে কি কোনো প্রাইজমানি পাওয়া যায়? (Do players get cash prize for winning Ballon d'Or)
অধিকাংশ মানুষের মনেই কৌতূহল থাকে যে ব্যালন ডি’অর বিজয়ী কত টাকা নগদ পুরস্কার পান (Ballon d'Or cash prize money for winners)। কিন্তু এই বিষয়ে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো—ফ্রান্স ফুটবল থেকে সরাসরি কোনো নগদ অর্থ পুরস্কার পান না বিজয়ীরা। আয়োজক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক প্রাইজমানি ঘোষণা করে না।
তবে নগদ অর্থ না মিললেও এর পরোক্ষ আর্থিক মূল্য অত্যন্ত বিশাল:
- বাণিজ্যিক সুযোগ ও স্পন্সরশিপ: ব্যালন ডি’অর জয়ী একজন ফুটবলারের বিশ্বজোড়া বাজারমূল্য ও বিপণন-সামর্থ্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বড় বড় ব্র্যান্ড ও স্পন্সরদের সাথে নতুন চুক্তি করার সুযোগ তৈরি হয়।
- উদাহরণ: যেমন; ২০১৮ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ের পর লুকা মদরিচ (Luka Modric Nike bonus) বিখ্যাত ব্র্যান্ড নাইকি থেকে প্রায় আট লাখ ইউরো বোনাস পেয়েছিলেন। পাশাপাশি নারী ফুটবলের মহাতারকা আইতানা বোনমাতি (Aitana Bonmati) বা অন্যান্য বিজয়ীদের ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সাথে চুক্তি সহজ হয়।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, ব্যালন ডি’অরের আসল প্রাপ্তি কোনো নগদ প্রাইজমানি নয়, বরং আজীবন সম্মান, ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো এবং সুদূরপ্রসারী বাণিজ্যিক ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:




