রঙের গন্ধ আর তুলির আঁচড়ে নতুন বছরের গল্প। মুখোশে ফুটে উঠছে লোকজ ঐতিহ্য। কাগজের পাখি, পেঁচা, মাটির সরায় রঙের ছোঁয়া দিতে ব্যস্ত সবাই। এর সবই নতুন বছরকে বরণ করার কর্মযজ্ঞ।
আছে শান্তির প্রতীক পায়রা, হাতি, ঘোড়ায় টেপা পুতুল আর পৌরাণিক চরিত্র। রাখা হয়েছে ঘুমভাঙানি মোরগের প্রতিকৃতিও। এর সবই প্রস্তুত হচ্ছে বৈশাখী শোভাযাত্রার জন্য।
সার্বজনীন উৎসবের রঙে রঙিন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। যাদের নিপুণ আল্পনায় ফুটে উঠছে নতুনের আবাহন। তুলির টানে, রঙের ঘ্রাণে, হাতের ছোঁয়ায় জেগে উঠছে নতুন বছরের স্বপ্ন।
চারুকলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে, আমরা সিনিয়র, জুনিয়র, শিক্ষকরা— সবাই একসঙ্গে কাজ করছি। এটা চমৎকার একটা আয়োজন, তা বাঙালি হিসেবে ভীষণভাবে আমাকে আনন্দিত করে।’
আরও পড়ুন:
চারুকলার প্রতিটি দেয়াল যেন কবিতার পাতার অবয়ব। কাগজের স্তরে স্তরে তৈরি এই পাখির ডানা যেন শান্তির প্রতীক হয়ে উড়ে যাবে আকাশ জুড়ে। ছড়িয়ে দেবে সম্প্রীতির বার্তা।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘গ্রাম বাংলাদের যে মেলাগুলো হয়, ওখানে কিছু কাঠের পুতুল পাওয়া যায়। সেখানকারই একটা বেশ পরিচিত একটা ফর্ম হচ্ছে এবার যে হাতিটা হচ্ছে, সেটা। ধর্ম, মত, জাতি, নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে একই জায়গায় মিলিত হবো।’
আরও পড়ুন:
এবার বৈশাখের নতুন মোটিফ ঐতিহ্যের একতারা। বাউলদের ওপর হামলার প্রতিবাদের চিহ্ন স্বরূপ রাখা হয়েছে এটি। শুধু একটি মোটিফ হিসেবেই নয়, বরং একতারার সুর প্রাণের শোভাযাত্রায় প্রতিবাদ আর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, ‘এই মানবিক রাষ্ট্রের যেসব জায়গাগুলো আমাদের আঘাতপ্রাপ্ত হয়, সে জিনিসগুলো আমরা শিল্পীরা অনুভব করি তীব্রভাবে। আমাদের শিল্পকর্মে সেগুলো তুলে ধরার চেষ্টা তো থাকেই। এটা কালেকটিভলি জাতীয় একটা প্রোগ্রাম। সেখানেও আমরা সেই জিনিসগুলো রেখেছি।’
আরও পড়ুন:
আবারও সৃজনের আলোয় উজ্জ্বল চারুকলার এই প্রাঙ্গণ। এখানে প্রতিটি মুখোশ যেন একেকটি প্রতিবাদ, প্রতিটি রঙ যেন একেকটি স্বপ্ন, আর প্রতিটি শিল্পী একেকজন সময়ের গল্পকার। সব কিছু ঠিক থাকলে, এখান থেকেই শুরু হবে এবারের বৈশাখ শোভাযাত্রা। যা ছড়িয়ে দেবে বাঙালির চিরন্তন ঐক্য, সম্প্রীতি আর আশার বার্তা।





