নাসির আলী মামুনের ৬৭তম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন

আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন
শিল্পাঙ্গন
0

বাংলা একাডেমি একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি আলোকচিত্রশিল্পী ও বাংলা একাডেমির ফেলো নাসির আলী মামুনের ‘ফটোজিয়াম: স্মৃতি—বিস্মৃতির মুখচ্ছবি’ শীর্ষক ৬৭তম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল) বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলা একাডেমির ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউজে এ প্রদর্শনী চলবে।

এতে বাংলাদেশের খ্যাতিমান প্রয়াত কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও কথাশিল্পীদের আলো—আঁধারে নির্মিত শতাধিক আলোকচিত্র প্রদর্শিত হবে। পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুলে ইসলামের কিছু দুর্লভ আলোকচিত্রও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন নাসির আলী মামুন। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘নাসির আলী মামুন কয়েক দশক যাবত আলোকচিত্রের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের প্রামাণ্যকরণের কাজটি অসাধারণ দক্ষতায় সম্পন্ন করেছেন। সংখ্যায় ও সৌন্দর্যে এর বিপুলতা আমাদের মুগ্ধ করে, ঋদ্ধ করে। বাংলা একাডেমির এ প্রদর্শনী শুধু নাসির আলী মামুনের শিল্পকাজের নমুনাই নয় বরং আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরের উজ্জ্বল সমুজ্জ্বল সূত্র।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নাসির আলী মামুনের এক একটি আলোকচিত্র যেন ইতিহাসের এক একটি বাঁক। তিনি ব্যক্তিকে তার ক্যামেরার আলোছায়ার বৃত্তে ধারণ করে তাকে ছড়িয়ে দেন বৃহত্তর নীলিমায়। দশকের পর দশক ধরে কীর্তিমান কবি—লেখক—শিল্পী—বুদ্ধিজীবীরা তার ফ্রেমে বন্দি হয়ে আমাদের মুক্তির দিশা দিয়ে চলেছেন কারণ তার আলোকচিত্রেরা কারিগরি সূক্ষ্মতার স্তর পেরিয়ে যাত্রা করে মননের অতল স্তরান্তরে।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘বাংলা একাডেমি নাসির আলী মামুনের এই একক প্রদর্শনী আয়োজন করে একটি জাতীয় দায়িত্ব পালন করছে। আশা করি, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ আমাদের প্রণম্য গুণীজনেরা দর্শকের কাছে নতুন মাত্রায় উদ্ভাসিত হবেন।’

নাসির আলী মামুন বলেন, ‘বাংলা একাডেমি আমাদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান, জাতির মননের প্রতীক। একাডেমির সঙ্গে আমার নিবিড় যোগাযোগ বহুকালের। জাতীয় কবি নজরুলসহ এদেশের অজস্র গুণীজনের সান্নিধ্য পেয়েছি এই পবিত্র প্রাঙ্গণে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমিতেই আমার প্রথম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়েছে। আজ ঠিক প্রায় ৫০ বছর পর বাংলা একাডেমিতে আমার ৬৭—তম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হচ্ছে—একজীবনে এটা আমার জন্য অনেক ভালোলাগার বিষয় এবং একইসঙ্গে ঐতিহাসিক ঘটনাও বটে কারণ এই প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া আলোকচিত্রের প্রতিটি মানুষ এক একজন ইতিহাস। আশা করি প্রদর্শনীটি আমাদের সবাইকে কীর্তিমান মানুষদের জীবন ও কৃতি সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলবে এবং তাদের আলোয় বাংলাদেশকে আলোকিত করে তুলবে।’

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘আলোকচিত্রে জাতির ইতিহাস কী বলিষ্ঠ ব্যঞ্জনা লাভ করে, নাসির আলী মামুনের আলোকচিত্রমালা তার সবল সাক্ষ্য। সুদীর্ঘকাল ধরে ব্যক্তিগত তাগিদ থেকে তিনি এ কাজ করে আসছেন।’

তিনি বলেন, ‘কীর্তিমানদের জীবন ও কৃতি সম্পর্কে আমাদের সচেতনতা কম। নাসির আলী মামুনের আলোকচিত্রগুচ্ছ তাদের জীবন ও কর্ম বিষয়ে আমাদের আগ্রহ জাগিয়ে তুলে। কীর্তিমানদের মতোই আমরাও দেশ ও জাতির হিতব্রতে নিজেদের নিবেদন করতে প্রাণিত হই।’ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. সাহেদ মন্তাজ।

এএইচ