ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে নির্মূলের নামে গাজা উপত্যকায় যখন ইচ্ছা তখন হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। কারও তোয়াক্কা না করেই মানুষ হত্যার খেলায় তারা বুঁদ হয়ে আছে। মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি লেবাননে ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন। এছাড়া ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আর চার বছর আগে শুরু হওয়া রুশ সেনাদের অভিযানে ইউক্রেনে নিহত হয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি মানুষ।
চলমান এই যুদ্ধাবস্থার জন্য সেসব দেশের নেতাদের দুষছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, ‘নেতানিয়াহু, পুতিন ও ট্রাম্প—এই তিন নেতা কেবল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড মহাসচিব বলেন, ‘আমরা এখন এমন কিছু লোভী শিকারির সঙ্গে আছি যারা লুকিয়ে থেকে বিশ্ব জুড়ে আমাদের সম্পদের ওপর আক্রমণ করছে, অন্যায়ভাবে সম্পদ লুণ্ঠন করছে এবং সার্বজনীন মানবাধিকার ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ভিত্তিমূলে আক্রমণ করছে। নিয়ন্ত্রণ, মুনাফা এবং দায়মুক্তির জন্য তারা একের পর এক তাদের দায়িত্ব লঙ্ঘন করে চলেছে।’
আরও পড়ুন:
আমরা এখন এমন কিছু লোভী শিকারির সঙ্গে আছি, যারা লুকিয়ে থেকে বিশ্বজুড়ে আমাদের সম্পদের ওপর আক্রমণ করছে, অন্যায়ভাবে সম্পদ লুণ্ঠন করছে এবং সার্বজনীন মানবাধিকার ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ভিত্তিমূলে আক্রমণ করছে। নিয়ন্ত্রণ, মুনাফা এবং দায়মুক্তির জন্য তারা একের পর এক তাদের দায়িত্ব লঙ্ঘন করে চলেছে।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় ক্যালামার্ড আরও বলেন, অধিকাংশ সরকার এসব আগ্রাসীর অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ না করে তাদের তোষণ করার পথ বেছে নিচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ তাদের মতো আচরণ করতে দ্বিধাবোধ করছে না। তবে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার সমালোচনায় ইউরোপে ব্যতিক্রম হিসেবে স্পেনের প্রশংসা করেন তিনি।
চারশো পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুরো বিশ্বব্যাপী এসব স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড তীব্র হয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তান থেকে জিম্বাবুয়ে পর্যন্ত বহু দেশের মৌলিক নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে এখানে।
তবে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সহিংসতা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে এসব হত্যা স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থার জন্য এটি গভীর উদ্বেগের বিষয় বলেও উল্লেখ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।





