মেঘনার বুকে অর্থনৈতিক অঞ্চল; তিন বছরেও নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি

শরীয়তপুর
সম্ভাবনা আর শঙ্কার দোলাচলে দাঁড়িয়ে মেঘনার অর্থনৈতিক অঞ্চল
এখন জনপদে
0

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর সম্ভাবনা নিয়ে মেঘনায় নদীর বুকে জেগে উঠেছে বিশাল চর। শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার এ চরেই সরকার গড়ে তুলতে চায় কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বদলে যেতে পারে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র। তিন বছর আগে অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য খাসজমি বরাদ্দ হলেও এলাকায় নেই নামফলক বা উন্নয়নকাজের কোনো চিহ্ন।

চরের বুক জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট নদী আর খালই এখানকার মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। আগাছায় ভরা জমির মাঝ দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ ধরে চলে তাদের দৈনন্দিন জীবন। এখানেই প্রায় ৬শ ৮৬ একর জমির ওপর গড়ে তোলার কথা কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল।

২০২২-২৩ অর্থবছরে মাত্র এক লাখ এক টাকা দলিল মূল্যে চর জালালপুর মৌজার খতিয়ানভুক্ত এ খাসজমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেজার কাছে বন্দোবস্ত দেয় সরকার। কাগজে-কলমে জমি বরাদ্দ হলেও নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি।

তিন বছর পরও প্রকল্প এলাকায় নেই নামফলক, নেই উন্নয়ন কাজের কোনো চিহ্ন। এমনকি কোনো জমি প্রকল্পের আওতাভুক্ত—তা চিহ্নিত করাও কঠিন।

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বলেন,‘এখন ওই জমি পরিত্যক্ত অবস্থা আছে। সেখানে যারা থাকে তারা চাষাবাদ করে। আর সীমানা নির্ধারণ করা আছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।’

মেঘনা নদীঘেরা চর জালালপুর মৌজায় আশ্রয় নিয়েছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার। আগাছা পরিষ্কার করে তারা এসব পতিত জমি আবাদযোগ্য করেছে। ফসল ফলিয়ে কোনোমতে চলে তাদের জীবন।

আরও পড়ুন:

এমন অবস্থায় জমিতে শিল্পায়নের পরিকল্পনার খবরে অনেক ভূমিহীন পরিবার পড়েছে দুশ্চিন্তায়। জমি চলে গেলে কোথায় হবে মাথা গোঁজার ঠাঁই—এ প্রশ্ন তাড়া করছে তাদের।

অন্যদিকে, অর্থনৈতিক এ অঞ্চল ঘিরে অনেকেই দেখছেন নতুন স্বপ্ন। শিল্পায়নের মাধ্যমে তৈরি হবে নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান।

এদিকে, বেজাকে জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকায় ভৌত অবকাঠামোতে এগোয়নি বলে জানায় জেলা প্রশাসন।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘ ২০২৩ সালের জুন মাসেই ওনাদের চাহিদা মোতাবেক ৬৮৬ একর জমি দলিল করে দেয়া হয়েছে। এটা মূলত একটি এগ্রো ভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রি করবে বলে তার জমি নিয়েছেন।’

সম্ভাবনা আর শঙ্কার দোলাচলে দাঁড়িয়ে মেঘনার অর্থনৈতিক অঞ্চল। সরকার ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিলে বদলে যেতে পারে গোসাইরহাটসহ পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি।

এএম