মুসল্লির স্রোতে মুখরিত শোলাকিয়া; ছয় লাখ ছাড়িয়ে ইতিহাসগড়া জামাত

কিশোরগঞ্জ
মুসল্লির স্রোতে মুখরিত শোলাকিয়া
ধর্ম ও বিশ্বাস
এখন জনপদে
0

ঈদের সকালকে ঘিরে এক অনন্য ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা লাখো মুসল্লির পদচারণায় ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত পরিণত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়।

আজ (শনিবার, ২১ মার্চ) সকাল ১০টায় চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই জামাতে অংশ নেন অন্তত ছয় লাখ মুসল্লি। দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন এই ঈদ জামাত সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ সমাগম হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সকাল থেকেই মুসল্লিরা দলে দলে ঈদগাহমুখী হতে থাকেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো ময়দান ভরে ওঠে, আর সকাল ৯টার মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় শোলাকিয়া মাঠ। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই মাঠের বাইরের সড়ক, আশপাশের এলাকা এমনকি দূরবর্তী স্থানেও কাতারবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করেন।

ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে তিন ধাপে শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে সংকেত দেয়া হয়—১০ মিনিট আগে পাঁচটি, পাঁচ মিনিট আগে তিনটি এবং এক মিনিট আগে দু’টি। এরপর যথাসময়ে শুরু হয় জামাত। ইমামতি করেন শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

আরও পড়ুন:

নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে রেল কর্তৃপক্ষ চালু করে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দু’টি বিশেষ ট্রেন। একটি ময়মনসিংহ থেকে এবং অন্যটি ভৈরব থেকে। ঈদের আগের দিন থেকেই কিশোরগঞ্জমুখী মানুষের ঢল নামে।

দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে মুসল্লিরা এসে কেউ আত্মীয়ের বাসায়, কেউ মসজিদে, আবার অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করেন।

জামাতকে কেন্দ্র করে নেয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠজুড়ে মোতায়েন ছিল পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, চার প্লাটুন সেনাবাহিনী, এক হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য, র‌্যাব ছয়টি টিম এবং আনসার সদস্যরা। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আরও পড়ুন:

এছাড়া সাদা পোশাকের গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি মাঠ ও প্রবেশপথজুড়ে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা। ছিল ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার এবং পুলিশের ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ। মুসল্লিদের সহায়তায় কাজ করেন বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও চিকিৎসক দল; রাখা হয় সুপেয় পানির ব্যবস্থাও।

জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ‘দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে এবারের জামাত ছিল নজিরবিহীন। স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসল্লির উপস্থিতি হয়েছে।’

তিনি জানান, প্রশাসনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই শান্তিপূর্ণভাবে জামাত সম্পন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন:

এদিকে জামাতে অংশ নেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জেলা বাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি শান্তিপূর্ণ দেশ গঠনে সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

জামাতে আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

প্রচলিত আছে, প্রথম জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণের কারণে এর নাম ছিল ‘সোয়া লাখিয়া’, যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়ে ‘শোলাকিয়া’ হয়েছে।

এসএস