গতকাল (মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল) সকাল থেকেই উত্তপ্ত চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের দেয়ালের গ্রাফিতিতে গুপ্ত লেখা নিয়ে ফেসবুকে উত্তেজনা। দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। কলেজ ছাড়িয়ে নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় বিস্তৃত হয় সংঘর্ষ।
পুলিশ ও কলেজ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় প্রথমবার পরিস্থিতি সামাল দেয়া গেলেও বিকেলে ফের ঘটে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এসময় দু’পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়।
ছাত্রদল এক নেতা বলেন, ‘আমরা চাই সবাই প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতি করুক। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে সবাই প্রকাশ্যে ছাত্র রাজনীতি করছে। আর কেউ বলতে পারবে না ছাত্রদল আধিপত্যবাদ রাজনীতি করেছে।’
আরও পড়ুন:
ঘটনার পর পুলিশের অবস্থানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পাস ও নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থান নেয় ছাত্রদল। দেয় মুহুর্মুহু স্লোগান।
ঘটনার সূত্রপাত কী নিয়ে হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় তারা।
সি এম পি কোতোয়ালি জোনের এসি মো. নূরে আল মাহমুদ বলেন, ‘দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। ঘটনা জানার পর আমরা এসে দু’পক্ষকে স্বাভাবিক রাখতে পেরেছি।’
সংঘর্ষ চললেও কলেজে মাস্টার্স ও ডিগ্রি পরীক্ষা চলেছে। অধ্যক্ষ জানান, পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিকেল ৫টার পর সবাইকে পুলিশি প্রহরায় ক্যাম্পাস থেকে বের করে নেয়া হয়। সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় আজ (বুধবার, ২২ এপ্রিল) কলেজের অভ্যন্তরীণ সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে চলবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা।
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন বলেন, ‘পরীক্ষাটি সারা বাংলাদেশ ব্যাপী এটা পাবলিক পরিক্ষা। আমরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবে পরীক্ষার সময় যেন সহায়তা করে। আর আমরা একটা মিটিং করেছি সেখানে থেকে বলা হয়েছে এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ক্লাসের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’
হামলার ঘটনায় ছাত্রদল ও শিবির একে অপরকে দায়ী করে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তবে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে রাজনৈতিক সমঝোতা ও সহাবস্থান জরুরি বলে মনে করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।





