বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট: মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্পে স্থবিরতা, ক্ষুব্ধ পর্যটকরা

মৌলভীবাজার
লাউয়াছড়া উদ্যান
এখন জনপদে
0

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্পে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। নিরবচ্ছিন্ন সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও। সংকট দীর্ঘ হলে সীমাহীন ক্ষতিতে পড়বে পর্যটন ব্যবসায়ীরা, সরকার হারাবে রাজস্ব।

চা বাগান, পাহাড়, ঝরনা, হাওর, লেকসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশ-বিদেশের লাখো লাখো পর্যটক মৌলভীবাজার ঘুরতে আসেন। কিন্তু বর্তমানে ঘন ঘন লোডশেডিং ও গরমে জেলার শতাধিক হোটেল রিসোর্টে আগাম বুকিং বাতিল করেছেন অনেক পর্যটক।

পর্যটকরা জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা থেকে ১৩ ঘণ্টা কোন কারেন্ট থাকে না।

রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জানান, এখানে প্রচন্ডভাবে কারেন্ট যাচ্ছে। আগে ১০০ শতাংশ বুকিং ছিলো এখন কারেন্টের কারণে ৪০ শতাংশ বুকিং আছে। অলরেডি ৬০ শতাংশ বুকিং কারেন্টের কারণে চলে গেছে।

ফ্রান্স থেকে বেড়াতে আসা অবসরপ্রাপ্ত পাইলট খ্রিস্টিয়ানো। ঘনঘন লোডশেডিং ও গরমে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

আরও পড়ুন:

পর্যটক কমে যাওয়াতে লোকসানে পড়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী, গাইড ও চান্দের গাড়ি চালকরা। চলমান বিদ্যুৎ সংকটে যেমন লোকসান হচ্ছে পর্যটন শিল্পে, তেমনি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, টুরিস্ট নাই বললেই চলে। বিদ্যুৎ নাই একদিকে তেল নাই। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ মৌলভীবাজার জেলা টুরিস্ট শূন্য। ব্যবসা-বাণিজ্য একবারে ডাউন হয়ে গেছে এখন লোডশেডিংয়ের কারণে।

টুরিস্ট গাইডরা জানান, পর্যটকদের মন মতো ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও তেলের অভাবের জন্য গাড়ি ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস কে দাশ সুমন বলেন, ‘মৌলভীবাজার জেলায় যতগুলো হোটেল-রিসোর্ট আছে তারা বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এতে করে সরকারও কিন্তু এখান থেকে একটা বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে বলে আমরা মনে করি।’

পর্যটন ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ সমস্যা দূর করতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘যতটুকু সম্ভব পর্যটনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেই জায়গাগুলো যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখা যায়, সে বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টকে অনুরোধ করবো এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পর্যটকদের যে নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়াদি রয়েছে আমরা চেষ্টা করবো শ্রীমঙ্গলে যেন পর্যটকরা নির্বিঘ্নে আসতে পারে।’

এসব সমস্যার সমাধান না হলে দেশের পর্যটন শিল্প পড়বে চরম দুর্দশায় । ভাটা পড়বে সরকারের রাজস্ব আদায়েও।

ইএ