টিফিনে রুটির সঙ্গে ‘কাঁচা কলা’ পেলো শিক্ষার্থীরা; অভিযুক্ত শিক্ষক বরখাস্ত

শিক্ষার্থীদের টিফিনে কাঁচা কলা
শিক্ষা
এখন জনপদে
4

ফরিদপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিংয়ে বন রুটির সঙ্গে কাঁচা কলা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠলে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ফরিদপুর সদর উপজেলার পুর্বখাবাসপুরে অবস্থিত ৯৩ নম্বর শহিদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে বরখাস্তকৃত ওই শিক্ষিকার দাবি কোনো নির্দেশনা না থাকায় এবং কলাগুলো যেভাবে পেয়েছেন তিনি সেভাবেই বিতরণ করেছেন। আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য খাবারগুলো দুই দিন আগে স্কুলে পৌঁছানোর নিয়ম। কিন্তু ওই স্কুলে যেদিন কলাগুলো পৌঁছানো হয় সেদিনই বিতরণের কারণে এমনটি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্কুল চলাকালীন সময়ে পুষ্টির চাহিদা পূরণে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে টিফিন কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে ওই বিদ্যালয়টিতে টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের বন রুটির সঙ্গে কাঁচা কলা খেতে দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা বন রুটি খেতে পারলেও কলা কাঁচা থাকায় তা খেতে পারেনি। এই ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ঘটনাটি জানাজানি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

আরও পড়ুন:

সূত্র জানায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার শহিদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাপী বেগম গত ২৫ এপ্রিল স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা গ্রহণ করেন।

পরদিন ২৬ এপ্রিল তিনি ওই কলা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেন। টিফিনের সময় খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা বিতরণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় গতকাল (মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দীন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ জারি করার মাধ্যমে স্কুলের সহকারী শিক্ষক গোলাপী বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আরও পড়ুন:

শহিদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাপী বেগম বলেন, ‘গত ২৫ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় আমি দ্বায়িত্বে ছিলাম। সে অনুযায়ী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে কলা ও বনরুটিগুলো আমি গ্রহণ করে সেগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যেভাবে খাবার দিয়ে যায় সেভাবেই বিতরণ করা হয়। এর কোনো নিয়ম ও নির্দেশনা আমাদের দেয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘শনিবার রুটি ও কলা পাওয়ার পর রোববার প্রথমার্ধে ৩২ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা কলাগুলো পাকা ছিল। দ্বিতীয় শিফটে ২০টি কলা ছিল। যেগুলো সাগরকলা, যা ওপরে সবুজ থাকলেও ভেতরে পাকা থাকে। কোনো নির্দেশনা ও নিয়মনীতি না থাকায় কলাগুলো বিতরণ করা হয়।’

এসময় তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।

আরও পড়ুন:

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশলেনা খাতুন বলেন, ‘কি বলতে কি বলবো ভয় লাগে। আমি ওই দিন ছুটিতে ছিলাম। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে খাবার সরবরাহ করেন না। তারা সেদিন যে কলা দিয়েছে তার দুই তিনটি কলা এখনো রয়েছে যা পাঁচ দিনেও পাকেনি। তাদের দেয়া কলা বিতরণ করে আমার স্কুলের শিক্ষক ভুল করেননি। এটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দ্বায়। অথচ একজন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা’র পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য টিফিনের খাবারগুলো সাধারণত দুই দিন আগে পৌঁছানো হয়। শনিবারে পৌঁছানো কলাগুলো রোববার বিতরণ করা হয়েছে। যা সোমবারের টিফিনে দেয়া কথা। কিন্তু দুই দিনের স্থানে একদিন আগে কলাগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। আর একদিন পরে কলাগুলো এমনিতেই পেকে যেত।’

ফরিদপুর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘স্কুল ফিডিংয়ে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহের নীতিমালা ও নির্দেশনা বিষয়ে মিটিংয়ে উত্থাপন করেও এর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। আর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যদি কাঁচা কলা সরবরাহ করেন তাহলে শিক্ষকের দোষ কি? শিক্ষকদের এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এখানে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপে না নিয়ে উল্টো একজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা অতিদ্রুত তার বরখাস্ত প্রত্যাহার চাই।’

আরও পড়ুন:

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদদীন বলেন, ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা গ্রহণ করার পরদিন ওই কলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। টিফিনের সময় খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা বিতরণের অভিযোগে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এমন মানহীন খাবার সরবরাহ বিষয়টি আমরা অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এসএস