কেবল রাত নয়, দিনের আলোতেও শহর ও শহরতলীতে মিলছে না চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ। রংপুরের দু'টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৬ লাখ গ্রাহকের ভাগ্যই এমন অভিন্ন।
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ আর ২ এর আওতায় গ্রাহক সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। এসব গ্রাহকের ৯ লাখ ৭০ হাজারই আবাসিক। এই বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়ার ছিল ভরসা। কিন্তু প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে লক্ষ্যমাত্রার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ একদিনও করতে পারেনি এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।
তিনটি ইউনিটের প্রথমটি চালু হয় ২০০৬ সালে, এরপর ২০১৮ সালে আরেকটি। ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়ে উৎপাদন দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াটে।
তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনের হারবিন ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি ও সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। তবে, উন্নত প্রযুক্তি আর কারিগরি সহায়তায় নির্মাণ হলেও উৎপাদন বন্ধ থেকেছে বেশিরভাগ সময়। জাতীয় গ্রিডে কখনোই যোগ করতে পারেনি ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ ডিজিএম মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষই তার সুবিধাটা নেওয়ার চেষ্টা করে। তখনই আমাদের ডিমান্ড-সাপ্লাইয়ের মধ্যে একটা তারতম্য চলে আসে। এই ক্ষেত্রে বড়পুকুরিয়ার সাথে আসলে উত্তরবঙ্গের আমাদের এটা একটা আশীর্বাদ। যদি এটা কন্টিনিউ চালু থাকে এটা আমাদের জন্য অনেকখানি সহায়ক হয়। বিশেষ করে গ্রাহক ভোগান্তিটা অনেকখানি লাঘব হয়।’
কয়লায় পাথরকণার মিশ্রণ, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় কয়লা ঘাটতিতে প্রায় বন্ধ থাকে বিদ্যুৎ উৎপাদন। একটি ইউনিট ২০২০ সাল থেকেই অকেজো, যান্ত্রিক ত্রুটিতে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটও বন্ধ ২০২৫ সাল থেকে।
উন্নয়ন গবেষক উমর ফারুক বলেন, ‘আমাদের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, আমাদের জনজীবনে নানা রকম সংকট এবং ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে আমরা মনে করি যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেখান থেকে দরকার হোক না কেন—জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক—সেই সহযোগিতাকে ব্যবহার করে এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটাকে সচল করা এবং এই সচল করবার মধ্য দিয়ে আমাদের বিদ্যুতের যে সংকট আছে সেই সংকটটাকে দূর করাটা আমাদের প্রত্যাশা।’
নানা সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট। চাহিদা ও প্রয়োজনের তুলনায় যা একেবারেই অপ্রতুল।





