ঈদের ছুটিতে রাতারগুলে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়, ভোগান্তি কাটেনি সড়কে

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট
এখন জনপদে
0

সিলেটের সুন্দরবনখ্যাত মিঠাপানির জলারবন রাতারগুলে ঈদের ছুটির আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। মনোমুগ্ধকর এই জলারবনের সৌন্দর্য উপভোগে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদেরও ভিড় বাড়ছে। তবে বেহাল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পর্যটকদের।

এভাবেই কেউ প্রাণ খুলে গেয়ে উঠছেন প্রিয় গান। কেউবা আবার মুঠোফোনের ফ্রেমে বন্দি করছেন প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্ত। ঈদের ছুটিতে যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে সিলেটের রাতারগুল।

শিল্পীর তুলিতে আঁকা জীবন্ত জলরঙের মতো এই জলারবনের চারদিকে সারি সারি হিজল, করচ আর রাতা গাছ। তাদের সবুজ ছায়া মিশে গেছে স্বচ্ছ জলের আয়নায়। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যে হারিয়ে যায় নগর জীবনের ক্লান্তি আর ব্যস্ততা। ডিঙ্গি নৌকায় ভেসে ভেসে জলারবনের সরু জলপথ পাড়ি দিতে দিতে পর্যটকরা উপভোগ করছেন এক অন্যরকম প্রশান্তি।

পর্যটকরা জানান, বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির ফরেস্ট, এটা তো সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা। যারা ঢাকা বা দূরে থাকে সুযোগ পেলে এদিকে আসতে চায়। পর্যটন স্পট মানুষ আছে, সব মিলিয়ে সবচাইতে ভালো উপভোগ করছি এই ঈদ আমরা রাতারগুলে এসে।

তবে প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের মাঝেও রয়েছে কিছু আক্ষেপ। রাতারগুলে পৌঁছানোর প্রধান সড়কের বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মতে, যাতায়াতের এই দুর্ভোগের কারণেই আগের বছরগুলোর তুলনায় এবারের ঈদে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।

আরও পড়ুন:

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শহর থেকে প্রায় এখানে প্রায় ২০ কিলোমিটারের মতো। এই ৮-১০ কিলোমিটারের অবস্থা খুবই নাজুক, খুবই অবস্থা খারাপ। চৌমুহনী বাজার থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থাটা খুব খারাপ।"

সড়ক যোগাযোগের এমন নাজুক পরিস্থিতি থাকলেও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি প্রশাসনের। জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রে টুরিস্ট পুলিশের নিয়মিত টহল ও তৎপর উপস্থিতি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট টুরিস্ট পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, মানুষের যে আসা-যাওয়ার পথটা, বিভিন্ন ঘাটে আসা-যাওয়ার পথটা একটু ছোট। যার কারণে গাড়ি পাস দেয়া বা মানুষের আসা-যাওয়া নিয়ে একটু কষ্ট হয়। আর এমনি পরিস্থিতি, সার্বিক পরিস্থিতি এখানে ভালো আছে।

প্রায় ৩ হাজার ২২০ একর জলাভূমি নিয়ে গড়ে ওঠা রাতারগুল বিশ্বের বিরল মিঠাপানির সোয়াম্প ফরেস্টগুলোর অন্যতম। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, যথাযথ সংরক্ষণ, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে রাতারগুল ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও সমৃদ্ধ পরিচিতি লাভ করবে।

ইএ