পেকুয়ায় গৃহবধূ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
এখন জনপদে
0

কক্সবাজারের পেকুয়ায় গৃহবধূ কাজল রেখা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।‎

আজ (রোববার, ২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় পেকুয়া পৌরসভার সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের উত্তর গোঁয়াখালী এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, মানবাধিকার কর্মী, নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।‎

‎এর আগে নিহত কাজল রেখার জানাজা উত্তর গোঁয়াখালী এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে হাজারো নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মগনামা সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়।‎‎

‎মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পেকুয়া সদর পশ্চিম জোন বিএনপির সদস্য সচিব আবদুল মোনাফ, মানবাধিকার কর্মী আলা উদ্দিন আলো, গ্রাম পুলিশ কল্যাণ সংগঠনের কক্সবাজার জেলা সভাপতি হেলাল উদ্দিন এবং নিহত কাজল রেখার পিতা জসিম উদ্দিন।‎

‎মানববন্ধনে আবদুল মোনাফ বলেন, ‘বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় কাজল রেখার রহস্যজনক মৃত্যু পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হলেও এখনো প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসেনি। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’

‎মানবাধিকার কর্মী আলা উদ্দিন আলো বলেন, ‘কাজল রেখার মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার ছিলেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’‎

‎নিহতের পিতা জসিম উদ্দিন আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, ‘আমার মেয়েকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না। তবে যারা আমার মেয়ের জীবন কেড়ে নিয়েছে, তাদের কঠোর শাস্তি দেখতে চাই। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হোক।’

‎মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তির দাবি তোলেন। এ সময় নিহতের স্বজন, প্রতিবেশী, নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ