নওগাঁর বক্তারপুরের প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ শ্যামপুর থেকে হরিপুর খাল। খালটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় তেমন কোন কাজে আসছিলো না স্থানীয়দের। তবে, পুনঃখনন হওয়ায় আবারো প্রাণ ফিরেছে খালটিতে। খাল খননের ফলে কৃষকদের সেচ সংকট দূর হওয়াসহ, বাড়ছে ফসলের উৎপাদন।
সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের কৃষক হাফিজুল ইসলাম। তার আবাদি জমির দেড় বিঘা জমি গ্রামের খালের পাড়ে। যেখানে সারা বছর তিনি শাক-সবজি ও ভুট্টার আবাদ করে থাকেন। আশপাশে গভীর বা অগভীর কোন নলকূপ না থাকায় খালের পানি ভরসা। এখন শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে যেকোনো সময় ফসলে সেচ দিতে পারছেন তিনি।
কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মোটরওয়ালার কাছে গিয়ে টানা লাগে। আজ হলো কাল, কাল হলো পরশুদিন এই করতে করতে দুই তিন তিন চলে যায়। এখন আমরা সুবিধা পেয়েছি, মোটর দিয়ে না হলে শ্যালো দিয়ে সেচ দিতে পারবো।’
জেলায় বেশ কয়েকটি খাল পুনঃখননে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে খালগুলো পুনঃখননের কাজ শেষ হওয়ায় দূর হয়েছে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা।
খালগুলোতে মাছ উৎপাদন ও হাঁস পালনসহ নানা আয়ের উৎস তৈরি হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নওগাঁ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে অনেক পানি পাবে এবং এই পানিটাকে তারা শস্য খাতে কাজে লাগাবে। এছাড়াও আমাদের খালের দুই পাশে পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে, যেটা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনেক সহায়তা করবে।’
নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, ‘খালের পারের উপরে যে আমাদের বনজ গাছ বা ফলজ গাছ, এগুলা আমরা বা সবজি আমরা কিন্তু এখান থেকেও একটা অর্থনৈতিকভাবে বেনিফিটেড হবো, বা কৃষকরা বেনিফিটেড হবে। সার্বিক অবস্থায় এই খাল খননের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় ১৩টি খাল পুন:খনন করা হচ্ছে। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। যার বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭০ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৭ টাকা।





