উদ্বোধনের আগেই বিপর্যয়? দেবে গিয়ে নদীতে বিলীন আঞ্চলিক মহাসড়ক

গাজীপুরের আঞ্চলিক মহাসড়ক
এখন জনপদে
0

গাজীপুরের রাজাবাড়ি বাজার থেকে জেলা শহরের সঙ্গে যাতায়াতের জন্য ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক। কিন্তু নির্মাণের মাত্র ৮ মাসের মাথায় সড়কটি দেবে গিয়ে ধসে পড়েছে নদীতে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। আর ঠিকাদার বলছেন, নদী তীরবর্তী হওয়ায় এমন ভাঙন স্বাভাবিক ঘটনা।

আঞ্চলিক মহাসড়কটি নির্মাণের বছর পেরোনোর আগেই একদিকে দেবে গিয়ে ধসে পড়ছে নদীতে। অন্যদিকে রাস্তা জুড়ে দেখা দিয়েছে ছোট-বড় ফাটল।

এমন ভোগান্তি আর দুর্ভোগ নিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করছেন শ্রীপুর থেকে গাজীপুর জেলা সদরে চলাচলকারী কয়েক হাজার বাসিন্দা। সড়কের ভাঙন ঠেকাতে নদীর পাড়ে ব্লক বসানোসহ সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় সালাম-দুর্গা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের শুরুতেই স্থানীয়রা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুললেও তা তোয়াক্কা করেননি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই ব্লকগুলো দেবে গিয়ে ধসে পড়ছে নবনির্মিত সড়কটি। এরই মধ্যে কয়েক দফা মেরামত করা হলেও সড়কের ধস থামানো যায়নি।

কোনো দিন এখানে ইঞ্জিনিয়ার আসেনি। কথা বললে বলে অন্যান্য জায়গার চেয়ে ভালো কাজ করেছি বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন পল্লী উন্নয়ণ ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীকে। সে অনুযায়ী গত ৪ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি পরিদর্শনের পর রাস্তার দুর্দশা দেখে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন,"মাটির বিষয়টি মাথায় নিয়ে টেস্টের রেজাল্টটি নিয়ে এখন এমনভাবে নির্মাণ করা হবে যাতে গাড়ি চাপিয়ে যদি যায় বা ভারী যানবাহনও যদি চলাচল করে রাস্তাটি ভবিষ্যতে আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’

নদী তীরবর্তী হওয়ায় রাস্তায় এমন ভাঙন স্বাভাবিক ঘটনা বলে জানান ঠিকাদার। অপরদিকে, ঠিকাদারের জামানত রাখা ৯০ লাখ টাকা দিয়েই সড়ক মেরামত করা হবে বলে জানায় উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ।

সালাম-দুর্গা এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার আব্দুস সালাম বলেন, ‘হাই কোয়ালিটির কাজ হয়েছে। কন্সাল্ট্যান্টের টিমের মাধ্যমে কাজ করানো হয়েছে। বেশি বৃষ্টির কারণে সাইডে খালে হয়তো একটু কাটিং টাটিং হইছে। এইজন্য তো সমস্যা না।’

গাজীপুরের শ্রীপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, ‘এখানে যদি রাস্তাটা ছিলো না, ‘একদম নতুন মাটি ভরাট করে এই অংশটা তৈরি করা হয়েছিল। আগে খালেরই অংশ ছিলো বলা যায়। নতুন মাটি ভরাট করে যেহেতু কাজ করা হয়েছে এটা একটা সিজন গেলে দেন এটা স্ট্যাবল হয়ে যাবে। তা আমরা লাকি যে এটা জামানতের সময়ের মধ্যে ঘটেছে, আমরা এটা শিগগিরই ঠিক করতে পারব।’

গাজীপুর জেলা শহরের সঙ্গে শিল্পাঞ্চল শ্রীপুর উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় ৯ কোটি টাকা।

জেআর