যমুনার ভাঙন আতঙ্ক: বিলীন ফসলি জমি, হুমকির মুখে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

যমুনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি
এখন জনপদে
0

যমুনার ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে পাবনার বেড়া উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম। বিলীন হয়েছে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি-ফসলি জমি। হুমকির মুখে বিদ্যুতের সাব স্টেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান ও মসজিদ। স্থায়ীভাবে নদীতে শাসন করা না গেলে জনদুর্ভোগ বাড়ার শঙ্কা স্থানীয়দের।

যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাবনার বেড়া উপজেলার লেওলাইপাড়া, কল্যাণপুরসহ নদী তীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামে হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে ভাঙন।

কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব আব্দুল বাতেন। এ পর্যন্ত ৬ থেকে ৭ বার সবকিছু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে প্রায় নিঃস্ব তিনি। নদীর ভাঙন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি তার।

আব্দুল বাতেন বলেন, জন্মস্থান তো এই চরে। কিন্তু এখন এই বস্তা ফেলে, লেভেলিং করে একটু পাকাপোক্ত করে দিলে পরে তাহলে দীর্ঘস্থায়ী হয়। যেগুলো ফালানো হয় আবার এক বছরের মধ্যে ভেসে জায়গাটা চলে যায় নদীগর্ভে।

তার মতো ঐ গ্রামের অর্ধশত বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বিদ্যুতের সাব স্টেশন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান ও মসজিদ। অনেকের দিন কাটছে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায়। বসতবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তাদের। দ্রুত স্থায়ীভাবে ভাঙন রক্ষার দাবি তাদের।

আরও পড়ুন:

স্থানীয়রা জানান, যেভাবে নদী ভাঙছে, এই চরে ৬০-৭০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। এরকম ভাঙলে বিদ্যুৎও ব্যবস্থা থাকবে না, কোনো কিছুই থাকবে না, মানুষও অস্থায়ী হয়ে যাবে। ঘরবাড়ি তো সব ভেসে গেছে। নদীতে যে বস্তা ফেলে নদীতেই তা নিয়ে যায়।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে ভাঙন কবলিত এলাকায় অস্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা ঐ ভাঙন কবলিত এলাকাগুলি আবার নিজে সরজমিনে আমরা পরিদর্শন করে, সেসব জায়গাগুলোতে আমরা অস্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ ডিক্লেয়ারেশন করে, ইমারজেন্সি ঘোষণা করে ঐসব জায়গাগুলোতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

কল্যাণপুরে ১৬ হাজার মানুষের বসবাস, এসব অঞ্চলে চাষাবাদ হয় বিভিন্ন অর্থকরী ফসল। দ্রুত ভাঙন রক্ষায় কাজ করবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

ইএ