উন্নত ভবন আছে, নেই চিকিৎসা: হবিগঞ্জে জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

আজমিরীগঞ্জ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল
এখন জনপদে
0

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩১ শয্যার এই হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা আধুনিক ভবন। রয়েছে অপারেশন থিয়েটার, এক্স-রেসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি এসব সেবা। বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও আসবাব। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তীব্র জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।

হবিগঞ্জের হাওরবেষ্টিত উপজেলা আজমিরীগঞ্জ। দুর্গম এই জনপদের লাখো মানুষের চিকিৎসার প্রধান আশ্রয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন নানা বয়সী রোগী। কিন্তু হাসপাতালে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

৩১ শয্যা থেকে ইতোমধ্যে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন। আলাদা পুরুষ ও গাইনি ওয়ার্ড এবং কেবিনের পাশাপাশি রয়েছে অপারেশন থিয়েটার, এক্স-রেসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু ভবন নির্মাণের দীর্ঘদিন পরও চালু হয়নি এসব সেবা। বাক্সবন্দি অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে মিলছে না ন্যূনতম চিকিৎসাসেবাও।

স্থানীয়রা জানান, এই হাসপাতালে কোনো ধরনের ব্লাড পরীক্ষা নেই, কোনো ধরনের ইসিজি, কোনো ধরনের পরীক্ষা নেই। একটু সামান্য পেটে ব্যথা বেশি হলে তারা রেফার করে দেয় হবিগঞ্জ। রোগী আছে অনেক, কিন্তু ডাক্তার কম। ডাক্তার কিছু বেশি হতো, রোগীদের জন্য সবচেয়ে ভালো হতো। হসপিটালের এমন একটা অবস্থা যে হাত-মুখ ধোয়ার যে স্থান, ট্যাপগুলা একটার মধ্যেও পানি নেই।

৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও কার্যক্রম চলছে ৩১ শয্যার জনবল ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে। নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও, বাড়ানো হয়নি প্রয়োজনীয় জনবল। সবচেয়ে বড় সংকট চিকিৎসক ও নার্সের। ১৯ অনুমোদিত চিকিৎসক পদের মধ্যে আছেন ৮ জন, ২৫ সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিপরীতে ৯ জন। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের আরও ১৬টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি চেয়ে এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, ৫০ শয্যার আলোকে জনবল পদায়ন অন্যান্য লজিস্টিক এনসিওর করণ—এগুলা প্রশাসনিক অনুমোদনের পরেই পর্যায়ক্রমে এগুলা হবে। এখন পর্যন্ত আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ৩১ শয্যার সেবা চালু আছে। এবং ভবিষ্যতে যদি এই কার্যক্রমগুলো সম্পন্ন হয়, তাহলে ৫০ শয্যার সেবা আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দেওয়া সম্ভব হবে।

হাওর-বেষ্টিত দুর্গম এই জনপদের লাখো মানুষের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে শিগগিরই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি এলাকাবাসীর।

ইএ