লোডশেডিং ও তাপদাহে বরগুনায় বিপর্যস্ত পোলট্রি শিল্প

পোলট্রি মুরগি
এখন জনপদে
1

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি তীব্র তাপদাহে বরগুনায় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পোলট্রি শিল্প। দীর্ঘ লোডশেডিং এবং অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক করে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে মুরগি। অন্যদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি পোলট্রি ফিডের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি পাইকারি বিক্রিতে মন্দায় খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।

চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের সাথে যুক্ত হয়েছে তীব্র তাপদাহ। আর এ কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বরগুনার পোলট্রি শিল্প। বিশেষ করে গ্রামের প্রান্তিক খামারিরা দীর্ঘ সময় লোডশেডিং ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।

গরমে মুরগি বাঁচাতে খামারে বাড়তি ফ্যানের ব্যবস্থা করেও মিলছে না রক্ষা। অতিরিক্ত গরমে স্ট্রোক করে প্রতিদিন প্রায় প্রতিটি খামারে মারা যাচ্ছে ৫ থেকে ১০টি মুরগি।

এদিকে সপ্তাহ ব্যবধানে বস্তাপ্রতি খাবারের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। ফলে একদিকে যেন উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে পাইকারি বিক্রিতে নেমেছে ধ্বস। এমন পরিস্থিতিতে লোকসানে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক খামারি।

খামারিরা জানান, খাবারের দাম অনেক বেশি। আর এদিকে বাজারে মুরগির দাম বাজারে নাই বললেই চলে। এর চেয়ে আরও বেশি ঝামেলা প্রায় সময় লোডশেডিং থাকে। এতে তারা ভালো মতো মুরগি পালন করতে পারছে না।’

তাপদাহের প্রভাবে খামারগুলোতে ডিমের উৎপাদন কমে গেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বাজারে। এক মাসের ব্যবধানে বাজারে ডজনপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। আর সপ্তাহ ব্যবধানে মুরগির দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

আরও পড়ুন

ব্যবসায়ীরা জানান, আগের চেয়ে দাম কিছুটা বেড়েছে। তা ছাড়া খাবারের দামও বেড়েছে।

ব্রয়লার মুরগির জন্য সহনীয় তাপমাত্রা ১৭ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি। এ অবস্থায় খামারিদের শেডে সঠিক বায়ু চলাচল ও দুপুরে খাবারের সঙ্গে স্যালাইন দেয়াসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর।

বরগুনা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় কারেন্ট থাকে না, তখন গরম লাগার কারণে তাদের বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে তাদের শরীরের যে অনেক সময় মাইক্রো অর্গানিজমগুলো থাকে, তখন এই পরিস্থিতিতে তারা সহজেই স্ট্রেস কন্ডিশনে আক্রমণ করতে পারে। এজন্য জায়গার পরিমাণ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফ্যানের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং খামারের চারদিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

দেশের প্রোটিন চাহিদার বড় একটি অংশ জোগান দেন এই প্রান্তিক খামারিরা। কিন্তু জ্বালানি সংকট আর প্রচণ্ড গরমে একের পর এক খামার বন্ধ হয়ে গেলে, ভবিষ্যতে ডিম ও মাংসের জন্য দেশ সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর হয়ে পড়ার আশঙ্কা খাত সংশ্লিষ্টদের।

জেআর