পদ্মার ভাঙনে বিলীন বসতভিটা; নিঃস্ব জাজিরার মানুষ

জাজিরার আলমখাকান্দি গ্রাম
এখন জনপদে
0

শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি আর গাছপালা। ভাঙনের শিকার তিন শতাধিক পরিবারের আশ্রয় হয়েছে ফসলি জমি আর খোলা আকাশের নিচে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে জাজিরার আলমখাকান্দি গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবারের।

ষাটোর্ধ মনোয়ারা বেগম। স্বামী হারিয়েছেন ১৫ বছর আগেই। ৬ সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন স্বামীর ভিটায়। অন্যের জমি থেকে ধান, মরিচ ও বাদাম তুলে দিয়ে যা পেতেন তা দিয়েই সারা বছর সংসার চলত মনোয়ারার। কিন্তু সর্বনাশা পদ্মা নিমিষেই গিলে খায় মনোয়ারার ভিটে মাটি ও বসতবাড়ি। সর্ব শান্ত হয়ে এখন মাথা গুঁজেছেন অন্যের জমিতে। সেখানেও ভাঙন হানা দিয়েছে। এখন কোথায় যাবেন তা ভেবেই দিশেহারা মনোয়ারা।

ভুক্তভোগী মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘বাতে আমার শব্দ শুনতে পাই। আমার উঠে দেখি আমাদের ঘর নদীর গর্ভে চলে গেছে।’

পদ্মার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কপাল পুড়েছে মনোয়ারার মতো আলমখা কান্দি গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবারের। নদী চলে এসেছে দরজায়, তাই যে যার মত বসতঘর আর সহায় সম্বল নিয়ে ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে। ইঞ্জিন চালিত নৌকায় চড়ে ছুটছেন নিরুদ্দেশের পথে। অনেকেই চরের ফসলি জমিতে অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করছেন বসত ঘর। খোলা আকাশের নিচে ঠিকানা হয়েছে অনেকেরই।

স্থানীয়রা জানান, তাদের অনেক জমি নদীর গর্ভে চলে গেছে। তারা এখন ছুটছে নতুন গন্তব্যের খোঁজে।

চরের শিক্ষার আলো ছড়ানো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও ভাঙনের কবলে। এরই মধ্যে পদ্মা কেড়ে নিয়েছে বিদ্যালয়ের একাংশ। ভয় আর আতঙ্কে ভবনের দরজা-জানালা আর আসবাবপত্র সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কমেছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আর যারা আছে তারাও আতঙ্কিত।

শিক্ষার্থীরা জানান, তারা আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে। এ স্কুল ভেঙে গেলে তাদের লেখাপড়ারই বা কি হবে তা নিয়েও সন্দিহান তারা।

শিক্ষকরা জানান, যে কোনো সময় এ বিদ্যালয় ভেঙে ঙেতে পারে। সেই আতঙ্ক নিয়েই তারা পাঠদান করে যাচ্ছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা শিক্ষা অফিসের আর সমীক্ষা শেষে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর।

শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলা শিক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বজলুর রহমান বলেন, ‘ছেলেমেয়েও চলে গেছে, আমরা চাচ্ছি যে স্কুলটা যদি ওখানে থাকে, রাখতে পারি, তাহলে চরের এই ছেলেগুলোর লেখাপড়ার সুযোগ-সুবিধা পাবে।’

শরীয়তপুর প্রকৌশলী বাপাউবো মিল্টন হোসেন বলেন, ‘জাজিরা উপজেলায় একটি প্রকল্প চলমান আছে মূল ভূখণ্ডকে রক্ষা করার জন্য। চরকে রক্ষার জন্য আমি যে টাকা ইনভেস্ট করব, যে পরিমাণ টাকা ইনভেস্ট করব, সেই পরিমাণ সম্পত্তি রক্ষা হবে কি না, সেইটা বিবেচনা করে তৎপরবর্তীতে প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা হবে।’

চলতি বছর পদ্মার ভাঙনে আলমখা কান্দি গ্রামের ৩ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছেন।

এফএস