আরও পড়ুন:
সেন্টমার্টিনে রাতযাপন নিয়ে বিভ্রান্তির মূল কারণ (Why confusion arose over Saint Martin night stay)
সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা জারি করা হলেও সেখানে রাতযাপনের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি:
- প্রজ্ঞাপনের অস্পষ্টতা: প্রজ্ঞাপনে দৈনিক সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণ ও ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ের কথা উল্লেখ থাকলেও রাতযাপনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে নতুন করে কিছু বলা হয়নি (Saint Martin environment fee 100 taka online ticket)।
- আগের সিদ্ধান্তের প্রভাব: গত বছরের নির্দেশনা অনুযায়ী নভেম্বর মাসে পর্যটকদের সকালে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসার নিয়ম ছিল। আর ১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। এবারও সেই পুরনো নিয়ম বহাল থাকবে নাকি শুরু থেকেই রাতযাপন করা যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
- ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা: কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের হোটেল-রিসোর্ট এবং জাহাজমালিক সমিতির মতে, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ না থাকলেও ১ নভেম্বর থেকেই পুরো মৌসুমে পর্যটকদের রাতযাপনের সুযোগ দেওয়া উচিত। আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হলে এমনিতেই পর্যটক সমাগম কমে যাবে (Coxs Bazar Saint Martin ship booking 2026)।
আরও পড়ুন:
জেলা প্রশাসনের বৈঠক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অগ্রগতি (Coxs Bazar DC decision on Saint Martin night stay)
রাতযাপনের বিভ্রান্তি নিরসনে ত্বরিত পদক্ষেপ নিচ্ছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন:
- বুধবারের বিশেষ বৈঠক: জেলা প্রশাসক জানান, প্রজ্ঞাপনে রাতযাপনের কথা না থাকায় বুধবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে ট্যুরিজম বোর্ড, নৌপরিহন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, হোটেল ও জাহাজমালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর রাতযাপনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
- জাহাজ চলাচলের নিয়ম: নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ-এর অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছাড়তে দেওয়া হবে না (BIWTA ship permission Saint Martin Nuniyarchhara)।
টেকনাফ পথ বন্ধ এবং সমুদ্রপথের বর্তমান অবস্থা (Teknaf to Saint Martin ship service updates)
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত ও নাফ নদীর সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল স্থগিত রয়েছে:
- কক্সবাজার থেকে জাহাজ চলাচল: বর্তমানে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে দুই বছর ধরে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল করছে (Coxs Bazar to Saint Martin ship route info)।
- দ্বীপের প্রস্তুতি: দীর্ঘ ৯ মাস যাতায়াত বন্ধ থাকার পর দ্বীপে পর্যটক আগমনের খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা উৎসাহিত এবং ২৩০টির বেশি হোটেল-রিসোর্ট ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে (Saint Martin resort booking and accommodation)।
আরও পড়ুন:
সেন্টমার্টিন ভ্রমণে বাধ্যতামূলক সরকারি ১২ নির্দেশিকা (Saint Martin mandatory rules for tourists)
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা এবং ২০২৩ সালে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়। ১ নভেম্বর থেকে ভ্রমণে যাওয়া সব পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত ১২টি কঠোর বিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক:
- ১. অনলাইন টিকিট ও কিউআর কোড: বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কাটতে হবে, যাতে কিউআর কোড ও ট্রাভেল পাশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে (Saint Martin online travel pass application)।
- ২. প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহার নিষেধ: দ্বীপে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
- ৩. সৈকতে আলো ও শব্দদূষণ নয়: রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান বাজানো ও বারবিকিউ পার্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (Saint Martin beach light and noise restrictions)।
- ৪. জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা: প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক, পাখি ও কেয়াবন বিনষ্ট বা সংগ্রহ করা যাবে না।
- ৫. যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ: সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা কোনো প্রকার ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চালানো যাবে না।
- ৬. ছেঁড়াদিয়া সফর সীমিত: দ্বীপে পরিবেশ রক্ষায় ছেঁড়াদিয়ায় পর্যটক যাতায়াত ও অবস্থান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে (Cheradwip Saint Martin travel restrictions)।
কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে পলিথিন ব্যবহার রোধ এবং সরকারি বিধিনিষেধ তদারকিতে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দুটি আলাদা পর্যবেক্ষক দল মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবে।
আরও পড়ুন:



