দেশের পোল্ট্রি খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ৬০ লাখ মানুষ। প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক খাত হিসেবে বিরাজমান পোল্ট্রি শিল্প। খাদ্য, বাচ্চা, ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট এবং রোগের প্রকোপে ক্ষতির মুখে পড়েছে এ খাত। লোকসানের মুখে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের খামার।
স্থানীয় এক খামার বলেন, ‘আমরা যারা ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আছি। আমাদেরকে যদি সরকার কোনোভাবে সহযোগিতা না করে তাহলে আমরা রাস্তায় বসা ছাড়া উপায় দেখছি না।’
একইভাবে তরুণ উদ্যোক্তা নূর হাসানের গল্পটাও বেদনার। শুরুতে কিছুটা লাভের মুখ দেখে সর্বোচ্চ চেষ্টায় পুঁজি ঢালেন মুরগির খামারে। তারও কপাল পুড়েছে এভিয়ান ফ্লুতে। ১৮ লাখ টাকার লোকসান মাথায় নিয়ে এখন স্বর্বশান্ত। কাজ হারিয়েছেন শ্রমিকরাও।
আরও পড়ুন:
খামারি নূর হাসান বলেন, ‘আমার ৩ হাজার মুরগি ছিলো, সবই মারা গেছে। কিছু মুরগি বিক্রি করতে পারলেও লস হয়েছে প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকা।’
এভিয়ান ফ্লুর আক্রমণ সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহ সদর, ফুলবাড়িয়া, ত্রিশাল এবং ভালুকা উপজেলায়। একদিকে, ফ্লুর তাণ্ডব অন্যদিকে, খাবার, ভ্যাকসিন ও চিকিৎসক সংকট জেলার পোল্ট্রি খাতকে নিয়ে গেছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
একজন ডিলার বলেন, ‘আমাদের এখানে ভালো কোনো ডাক্তার নাই। যারাও আছে তারাও রোগ ধরতে পারছে না।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য বলছে, জেলায় নিবন্ধিত অনিবন্ধিত মিলিয়ে ব্রয়লার ও লেয়ার খামার রয়েছে ৫ হাজারের বেশি। সরকারি নির্দেশনা না পাওয়ায় অর্থসহায়তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পাশে দাঁড়ানোর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। এ অবস্থায় শিল্প টেকাতে দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনসহ ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা এবং কৃষি বিমা চালুর পরামর্শ কৃষি বিশেষজ্ঞদের।
আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম বলেন, ‘সরকার থেকে যখন কোনো প্রণোদনা দেয়া হয় তখনি আমরা সব রকমের তথ্য সংগ্রহ করি।’
বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জ-মূলত একটি ভাইরাসজনিত রোগ। যা পাখি ও হাঁস-মুরগিসহ গৃহপালিত পাখিদের মধ্যে ছড়ায়। ১৯৯৬ সালে চীনে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এরপর এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।





