কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমে নাসিরনগরের হাওর এলাকাগুলোর ১১ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত শুরুর আগেই ৬০ শতাংশের বেশি ধান কর্তন করা হয়। তবে বৃষ্টির কারণে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই নতুন নতুন জমি প্লাবিত হচ্ছে। সর্বশেষ সোমবার সকাল পর্যন্ত ৩০৫ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে যায়।
এদিকে, পানি বাড়তে থাকায় দৈনিক দেড় হাজার টাকা মজুরিতেও শ্রমিক মিলছে না ধান কাটার জন্য। ফলে জমিতেই পচে নষ্ট হচ্ছে পাকা-আধাপাকা ধান।
আরও পড়ুন
এছাড়া কিছু কিছু জমির ধান কাটা গেলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে ধান শুকানো যাচ্ছে না। এতে করে লোকসান বাড়ছে কৃষকরা।
নাসিরনগরের কৃষক বশির মিয়া জানান, ধারদেনা করে মেদীর হাওরে ১৫ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন। অধিকাংশ ধান কাটার সময় হয়েছিলো। ধান কাটার প্রস্তুতি নেয়ার মধ্যেই টানা বৃষ্টিতে সব জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি মজুরি দিয়ে জমির ধান কাটলেও বাজারে এসব ধান ৫০০-৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতেও কষ্ট হবে।
রহিম মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে জমিতে ধান ফলিয়েছি। কিন্তু কষ্টের সেই ফসল ঘরে তুলতে পারছি না। জমির ধান বিক্রি করেই আমার পরিবার চলে। এখন জমির ধান কাটতেও পারছি না, বেচতেও পারছি না। একেবারে পথে বসার মতো অবস্থা আমার।’
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, বর্তমানে তার ৩০৫ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে আছে। এছাড়া যেসব ধান কাটা হয়েছে, সেগুলো রোদ না উঠায় শুকানো যাচ্ছে না। ফলে সে ধানগুলোও নষ্ট হওয়ার পথে।





