অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘কর্মচারীদের বেতন গ্রেড-ভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধন-পরিমার্জনের বিষয় পর্যালোচনা কমিটি’ (Finance Minister Amir Khosru Mahmud Chowdhury pay scale committee)। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ২ নভেম্বর এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে (Cabinet Division notification on pay scale committee)।
কমিটির অন্য সম্মানিত সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী (Ministers in the pay scale review committee Bangladesh)। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব ও জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা এই কমিটিকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবেন।
আরও পড়ুন:
বেতন কাঠামোর প্রধান অসংগতিসমূহ ও কর্মচারীদের অসন্তোষ (Pay scale anomalies and salary discrepancies BD)
নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার পর থেকেই বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বেতন গ্রেড ও পদোন্নতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে (Government employees salary discrimination and issues). কর্মচারীদের প্রধান অভিযোগ ও অসংগতির দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- ওপরের গ্রেডে বেতন কম পাওয়ার জটিলতা: নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। তবে আগের বেতন সমন্বয়ের পর দেখা যাচ্ছে, ১১তম গ্রেডের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১২তম গ্রেডের কর্মচারী ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন (11th and 12th grade salary anomaly Bangladesh)।
- পদোন্নতিতে আয় কমে যাওয়ার সমস্যা: পদোন্নতি পেয়ে দশম গ্রেড (মূল বেতন ৪৯,৭০০ টাকা) থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত হলে (মূল বেতন ৫১,০০০ টাকা) মূল বেতন সামান্য বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা ৫০ শতাংশ থেকে কমে ৪৫ শতাংশ হয়ে যায়। এর ফলে বাড়িভাড়া বাবদ প্রায় ২ হাজার টাকা কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে কর্মচারীর মাসিক আয় প্রায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পাচ্ছে (Promotion salary reduction and house rent allowance issue)।
- উচ্চতর গ্রেড ও জ্যেষ্ঠতা নিয়ে জটিলতা: নির্দিষ্ট সময় চাকরি পূর্ণ করার ভিত্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের কারণে অনেক সময় জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় কাছাকাছি চলে আসে, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কনিষ্ঠ কর্মীর বেতন জ্যেষ্ঠ কর্মীর চেয়েও বেশি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে (Seniority and higher grade pay scale problem)।
আরও পড়ুন:
নতুন ঝুঁকি ভাতা ও ভাতা পুনর্বিন্যাসের সুযোগ (New risk allowance and allowance review for government employees)
গঠিত এই ছয় মন্ত্রীর কমিটির কার্যপরিধিতে শুধু বেতন গ্রেডের অসংগতি নিরসন বা পদোন্নতির জটিলতা দূর করাই নয়, বরং বিভিন্ন পদের গ্রেড উন্নীত বা অবনমন এবং গ্রেডগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে (Risk allowance and allowance restructuring committee BD)।
পাশাপাশি, ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় বা দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন করে ঝুঁকি ভাতা চালুর পাশাপাশি প্রচলিত বিভিন্ন ভাতার হার বাড়ানো বা কমানোর সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করতে পারবে এই কমিটি (New risk allowance for public servants Bangladesh)। গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন বেতনকাঠামোর গেজেট জারির পর ৫ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে আইবাস++ (iBAS++) পদ্ধতির মাধ্যমে বেতন নির্ধারণের কাজ চলেছে। তবে গেজেটের কয়েকটি বিধান ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে যে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে, তা এই কমিটির প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:



