দক্ষ প্রবাসী কর্মীদের জন্য গড়ে উঠবে ‘স্মার্ট স্কিল ব্যাংক’

প্রতীকী ছবি
দেশে এখন , বাজেট
অর্থনীতি
0

বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা জোরদার এবং শ্রমবাজার বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে একাধিক নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু, দক্ষ কর্মীদের জন্য ‘স্মার্ট স্কিল ব্যাংক’ গঠন, নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং বিদেশে বিপদগ্রস্ত কর্মীদের সহায়তায় দূতাবাসভিত্তিক ‘বাংলাদেশ সাপোর্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা।

আজ (বৃহস্পতিবার, ১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব উদ্যোগের ঘোষণা দেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, ঝুঁকিমুক্ত অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

তিনি জানান, প্রবাসী কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। এতে কর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য, দক্ষতা, চাকরির শর্তাবলীসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। কার্ডটি ব্যাংকিং পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় রেমিট্যান্স পাঠানো আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি বীমা, কল্যাণসেবা, ব্যাংকিং সুবিধা ও জরুরি সহায়তাও এর আওতায় আনা হবে। আগামী অর্থবছর থেকেই পর্যায়ক্রমে এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান শ্রমবাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিকল্প গন্তব্য হিসেবে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’

বিদেশি নিয়োগকর্তাদের আস্থা অর্জন এবং দক্ষ কর্মীদের মান যাচাই নিশ্চিত করতে চালু করা হবে ‘স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম’। এর আওতায় প্রতিটি কর্মীর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সনদ যাচাই করে একটি কেন্দ্রীয় ‘স্মার্ট স্কিল ব্যাংক’ বা ডাটাবেজ গড়ে তোলা হবে।

যাচাইকৃত কর্মীদের আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ডিজিটাল সনদ দেয়া হবে, যাতে বিদেশি নিয়োগকর্তারা সরাসরি মানসম্পন্ন দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে পারেন।

বিদেশে জেলে থাকা, নির্যাতনের শিকার বা প্রতারণার শিকার বাংলাদেশি কর্মীদের সহায়তায় শ্রমিকপ্রধান দেশগুলোর বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘বাংলাদেশ সাপোর্ট সেন্টার’ স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্র উদ্ধার কার্যক্রম, আইনি সহায়তা, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্যও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বিদেশে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশি কর্মীদের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়াও সহজ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি আরও ৫০টি উপজেলায় নতুন ৫০টি টিটিসি নির্মাণ করা হবে।

সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৭ হাজার ৫০০ দেশিয় প্রশিক্ষকের পাশাপাশি ১ হাজার বিদেশি দক্ষ প্রশিক্ষক এবং ১ হাজার ভাষা প্রশিক্ষক ও নেটিভ স্পিকার নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠা করা হবে ‘ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ই-লার্নিং সেন্টার’ এবং ‘মাইগ্রেশন মার্কেট রিসার্চ ইনস্টিটিউট’।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মার্চ ২০২৬-এ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। এ ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা বহাল রাখা হবে।

এএইচ