দেশের ১ লাখ ১৮ হাজার প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি। নানা কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীর ভর্তি হার তুলনামূলকভাবে কম, অপরদিকে ঝরে পড়ার হারও বেশি।
এরমধ্যে নানাবিধ আর্থ-সামাজিক সংকটে থামানো যাচ্ছে না বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম। এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষামুখী করতে প্রথমবারের মতো প্রত্যেকটি উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে ধাপে ধাপে জুলাই মাসে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস,পাটের স্কুল ব্যাগ, জুতা-মোজা দেবে সরকার।
এ বিষয়ে অভিভাবকরা জানান, এমন উদ্যোগের কারণে শিক্ষা খাতে ব্যয় কমবে তাদের।
অভিভাবকরা জানান, স্কুল ব্যাগ তারপর ড্রেস এবং জুতার প্রতি খুবই আগ্রহী। ওরা খুবই উৎসাহ পাবে এবং তারা রেগুলার স্কুলে আসবে। প্রত্যেকটা প্রাপ্তিতেই মানুষ খুশি হয়। এবং তার রিটার্নে তখন যদি তাকে কিছু বলা হয় যে এইটা করো, সে আগ্রহ নিয়ে করো।
অপরদিকে শিক্ষাবিদরা বলেন, এমন কর্মসূচি গ্রাম-গঞ্জে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নত হবে।
শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘মহানগরীগুলোতে তো দেখতে পাওয়া যায় না। যেটা দেখতে পাওয়া যায় সেটা হচ্ছে গ্রাম-গঞ্জে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সেখানেই এই কর্মসূচিগুলো ভালো একটা ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসবে বলে আমরা মনে করি।’
আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জানান, আনন্দদায়ক পরিবেশে শ্রেণীকক্ষে শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘পাইলটের মাধ্যমে আমরা দেখব এটা কত সার্থকতা পায়, লাভ করে। তার ভিত্তিতে প্রয়োজনে আগামী দিনগুলোতে আরও বৃদ্ধি করতে পারি আমরা। মেইন আইডিয়াটা হলো যে সকল শিক্ষার্থীকে শ্রেণীকক্ষে নিয়ে আসা। আমরা আশাবাদী আমরা সফল হব সকলকে। এবং শ্রেণীকক্ষে আনার পর শ্রেণীকক্ষে যেন শিক্ষার্থীরা থাকে এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়, সেই কারণে ঐ যে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, মানে আনন্দময় শিক্ষাক্রম। আপনার কারিকুলামে বদল আনা সবকিছু আমরা করছি।’
পাইলট প্রকল্প সফল হলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে এগুলো বিতরণ করা শুরু হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।





