হাতে-কলমে হিসাব ও পে-ফিক্সেশন জটিলতা (Manual Calculation and Pay Fixation Complexity)
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ডিজিটাল ডাটাবেজ সমন্বয় না হওয়া এবং ম্যানুয়াল বা হাতে-কলমে হিসাব করার বাধ্যবাধকতাই এই বিলম্বের প্রধান কারণ।
- স্কুল-কলেজ ও কারিগরি: মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (DSHE) এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনস্থদের বেতন-ভাতার হিসাব অটোমেটেড বা কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হয়।
- মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর: মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন জনবলের বেতন-ভাতার হিসাব সম্পূর্ণ কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয় না হয়ে ম্যানুয়ালি করতে হয়। হাতে-কলমে হিসাব ও আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমে নতুন পে-ফিক্সেশনের তথ্য মেলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
আলাদাভাবে বেতন দেওয়ার সুযোগ নেই (No Separate Payment Option)
মাদ্রাসায় কর্মরত জনবল বাদ রেখে কেবল স্কুল, কলেজ ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নতুন পে-স্কেলে আগে বেতন দেওয়া সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় একই হওয়ায় আলাদাভাবে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। ভিন্ন বিভাগ হলেও প্রশাসনিক কাঠামোর সমতা রক্ষার স্বার্থে সারাদেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে একসঙ্গেই নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা প্রদান করা হবে।
অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন দেওয়ার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তবে কারিগরি জটিলতা নিরসন না হলে তা আরও কিছুটা পেছাতে পারে।
আরও পড়ুন:
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর অবস্থান (Education Ministry and MPO Teachers Impact)
ইতোপূর্বে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আশ্বাস দিয়েছিলেন যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতন কাঠামোর পুরো সুবিধা পাবেন।
বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৬ লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন:
- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর: প্রায় ৪ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী
- মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর: প্রায় পৌনে ২ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর: ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী
স্বল্পসংখ্যক সচ্ছল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব তহবিল থেকে শিক্ষকদের বাড়তি ভাতা দিলেও দেশের সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানই সরকারি এমপিও (MPO) অনুদানের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। ফলে নতুন পে-স্কেলে বেতন পেতে বিলম্ব হওয়ায় সারাদেশের শিক্ষকদের মধ্যে অপেক্ষার উদ্বেগ বাড়ছে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:




