চক্ষুসেবা সম্প্রসারণে অপটোমেট্রি কাউন্সিল গঠনের তাগিদ

জাতীয় সংলাপ
স্বাস্থ্য
1

দেশে চক্ষুসেবা আরও বিস্তৃত করতে এবং অপটোমেট্রিস্টদের সেবাকে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় আনতে অপটোমেট্রি কাউন্সিল গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন চক্ষুস্বাস্থ্য খাতের অংশীজনরা। আজ (মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত এক জাতীয় সংলাপে এ মতৈক্য উঠে আসে।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. এএসএমএম কাদির বলেন, ‘অপটোমেট্রি শিক্ষায় ভর্তির যোগ্যতা, অপটোমেট্রিস্টদের ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দেয়ার সুযোগ এবং তারা স্বাধীনভাবে কাজ করবেন নাকি চক্ষু বিশেষজ্ঞের অধীনে দায়িত্ব পালন করবেন, এসব বিষয় নির্ধারণে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির (ওএসবি) মহাসচিব অধ্যাপক মো. জিন্নু রাইন বলেন, ‘ওষুধ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অপটোমেট্রিস্টদের কাজের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকা উচিত।’

ওএসবির সভাপতি ডা. মো. তৌহিদুর রহমান চক্ষুসেবা কর্মীদের বিভিন্ন স্তরের প্রশিক্ষণ ও কোর্সে অভিন্নতা আনার পাশাপাশি তাদের দায়িত্ব ও কাজের সীমানা নির্ধারণের পরামর্শ দেন।

ওএসবির কোষাধ্যক্ষ ডা. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির বলেন, ‘অপটোমেট্রিস্টদের স্বাস্থ্যসেবার মূলধারায় নিয়ে আসতে সরকারের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। অথচ ভারতে চক্ষুসেবা প্রদানে এই পেশাজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।’

‘চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় নীতি সংলাপ: বাংলাদেশে অপটোমেট্রিস্ট এবং সহযোগী চক্ষুসেবা কর্মীদের জন্য কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা বিষয়ে পরামর্শসভা’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল।

আরও পড়ুন:

অরবিস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) বাংলাদেশের অনারারি কান্ট্রি চেয়ার ডা. মুনির আহমেদ সংলাপটি পরিচালনা করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চক্ষুসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় দক্ষ জনবলের ঘাটতি এ খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে অপটোমেট্রিস্টদের মূলধারার স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত করা জরুরি।’

বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক শরীফুজ্জামান পরাগ বলেন, ‘দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ বর্তমানে চক্ষুসেবার প্রয়োজন অনুভব করেন। কিন্তু তাদের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও জনবল পর্যাপ্ত নয়।’

সিএসএফ গ্লোবালের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘দেশে চক্ষুসেবার পরিধি বাড়াতে অপটোমেট্রিস্টদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া জরুরি।’ এ জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি অপটোমেট্রি কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন ওএসবির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মো. সায়েদুল হক, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. শাহ আলম, বাংলাদেশ অপটোমেট্রিক সোসাইটির সভাপতি মো. দিদারুল ইসলাম, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেসের ডিন ডা. আনিসুর রহমান, চিটাগাং আই ইনফার্মারি অ্যান্ড ট্রেনিং কমপ্লেক্সের মেডিকেল পরিচালক ডা. রাজীব হোসেন, দীপ আই কেয়ার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. খায়রুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি (বিজেএকেএস) কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আবদুস সেলিম।

এসএস