প্রায় ১০ বছর পর জীবিতাবস্থায় মা-বাবার কাছে ফিরলো সৌদি আরব প্রবাসী আফরোজা আক্তার। যোগাযোগ না থাকায় মেয়ে বেঁচে নেই বলে ধরে নিয়েছিলেন কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের মোহাম্মদ আলী ও ফাতেমা বেগম। দীর্ঘ সময় পর মেয়েকে ফিরে পেয়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত।
দারিদ্র সংসারের হাল ধরতে দালালের প্ররোচনায় ২০১৬ সালে মেয়েকে সৌদি আরব পাঠান এই দম্পতি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিলো প্রথম দেড় বছর। সেসময় টাকাও পাঠান এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা নারী। পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে কেটে যায় প্রায় ৯ বছর। বাবা-মা ধরে নেন দেশটিতে মারা গেছেন আফরোজা।
ভুক্তভোগীর বাবা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘দেড় বছর পর্যন্ত ওর খবর পেয়েছিলাম, এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ খবর পাইনি।’
ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘ মনে করেছিলাম আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই; আর কোনোদিন ওকে ফিরে পাবো না। ওকে ফিরে পেয়েছি এটার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।’
আফরোজা জানান, দেশটিতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন তিনি। এক বছর পর থেকে বেতন বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দিতেন না তারা। পরে পুলিশের সহায়তায় নিয়ে আফরোজা দেশে ফেরার সুযোগ পায়।
ভুক্তভোগী আফরোজা বলেন, ‘তাদের কাছে টাকা চাইলে টাকা দিতো না। এছাড়া ফোন চাইলে ফোন আমাকে দিতো ওরা।’
সৌদি আরবের পুলিশের হেফাজতে থাকা এই নারী গেল ১৭ এপ্রিল দেশে ফিরে আসেন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা করতে দেখে তাকে চিহ্নিত করে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি। পরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে ব্র্যাকে পাঠিয়ে যায়। পরে পরিবারের সন্ধান পায় সংস্থাটি।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার ব্যবস্থাপক আল আমিন নয়ন বলেন, ‘আমাদের দূতাবাসকে আরও কিছুটা দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একটা মানুষ যখন বিদেশে কর্মসংস্থানে যাচ্ছে, তার তো একটা চুক্তি মেয়াদ রয়েছে। এটার, যদি কোনো একটা অনলাইন সিস্টেমে থাকে, সেখানে সেই ব্যক্তি তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কিনা, অথবা সে ফিরে এলো কিনা বা ছুটিতে পাঠালো তার নিয়োগকর্তা, এটা মনিটরিং না করা হবে। এমনটা নাহলে এমন আফরোজা আক্তারের মতো আরও বহু কেস হতে থাকবে।’
এসব ঘটনায় বিদেশে থাকা দূতাবাসগুলোর কোনো সহায়তা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ৮ বছরে মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে প্রায় দেড় শতাধিক নারী কর্মী ফিরে এসেছে পরিবারের কাছে।





