কেয়ার হোম ও এজেন্সিসহ যুক্তরাজ্যের কেয়ার সেক্টরে ২০২২ সালে শূন্যপদ ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার। ২০২৩ সালে কেয়ার ভিসায় ডিপেন্ডেন্টসহ প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ভিসা ইস্যু করেছিল হোম অফিস। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ওই বছর দেয়া হয় ৭৫ শতাংশ কেয়ার ভিসা।
যুক্তরাজ্যে বসবাস, বাসস্থান, ৪০ ঘণ্টা কাজের সুযোগসহ নানা সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইস্যু করা হয় এসব কেয়ার ভিসা। এই সুযোগে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। ভয়ে ও আতঙ্কে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি মুখ খুলতেও রাজি হয় না। তবে বাস্তবে তাদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র চোখে পড়ে কমিউনিটিতে।
প্রবাসীদের একজন বলেন, ‘অনেক লোক কেয়ার ভিসায় আইসা কোনো কাজ কর্ম না পেয়ে উনারা ফ্রান্স চলে গেছে। এই লরির ভিতরে ঢুকে ফ্রান্স চলে গেছে। আমার অনেক জানাশোনা লোক অনেকেই এখনো কাজ পান নাই। আর যারা পেয়েছেন কাজ কারণ যারা কেয়ার ভিসা নিয়ে আসছেন আপনারা এখানে আসার পরে তাদের যে বাড়িভাড়া, তাদের যে ফুড থাকা-খাওয়ার খরচা ম্যানেজ করতে পারছে না।’
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামে-বেনামে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা এসব কেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ ব্রিটিশ সরকার। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের বিকল্প জরুরি বলে মত বিশ্লেষকদের।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাজ্য সলিসিটর এম আবুল কালাম বলেন, ‘এটলিস্ট হোম অফিসে একটা অ্যাপ্লিকেশন করবেন, এই বলে- “আয়্যাম লুকিং ফর অ্যানাদার জব। সো, ক্যান আই হ্যাভ লিভ আউটসাইড দ্য ইমিগ্রেশন রুলস?” এটা একটা সুযোগ আছে কিন্তু। এইটা করতে পারলে আপনার ৬ মাস, এক বছর আপনি সময় পাবেন। এর মধ্যে আপনি কাজ খুঁজতে পারবেন।
ব্রিটেনের কেয়ার খাতে এখনও দেড় লাখের বেশি শূন্যপদ রয়েছে। তবে ডিপেন্ডেন্ট ভিসা বন্ধ ও স্পন্সরশিপ নীতির কড়াকড়ির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দেশে অবস্থানরত অভিজ্ঞ কর্মীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবুও স্পন্সর হারানো অনেক কর্মী পুনর্বাসনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শহরের বাইরে যেতে আগ্রহী না।
ইউকে টাওয়ার হ্যামলেটস কেয়ারার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল হুসাইন বলেন, ‘আমরা কিন্তু সব শহরমুখী। এ শহরটা ছেড়ে আমরা কিছু আউট অফ শহরে যদি আমরা যাওয়ার চিন্তাধারা করি বা এরকম জব সার্চ করি আমার মনে হয় অ্যাভেইলেবল জব আছে। আমার মনে হয় সবার এ নিয়ে একটু চিন্তা করা দরকার। কারণ আমরা প্রায়ই যত কেয়ারারই পাইছি সব দেখা যায় এ লন্ডন সিটিতে, ম্যানচেস্টার সিটিতে, বার্মিংহ্যাম সিটিতে বিভিন্ন বড় বড় সিটিতে বসে রয়েছেন। কিন্তু সব এজেন্সি মেজরিটি এজেন্সিগুলো সিটিতেই থাকে। আমাদের খাস করে আমরা বাংলাদেশি এজেন্সি যারা সবাই বড় বড় সিটিতেই এজেন্সিগুলো করে। এই জন্য এই সিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজ হারানো বাংলাদেশিদের সুরক্ষা দিতে কেবল প্রশিক্ষণ নয়, বরং ‘কমিউনিটি কেয়ার হাব’ গঠন জরুরি। এই হাবের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি পরামর্শ, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসার পরামর্শ ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট জনের।





