যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মো. মাহফুজুল হক
প্রবাস
0

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী মো. মাহফুজুল হক (৪৩)। গত (মঙ্গলবার, ৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফিলাডেলফিয়ার কিংসেসিং এলাকার সাউথ ইথান স্ট্রিটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাহফুজুল হক রাজশাহীর সন্তান এবং বর্তমানে সপরিবারে ফিলাডেলফিয়ার নর্থইস্ট এলাকায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে খাবার ডেলিভারি দেয়ার উদ্দেশ্যে কিংসেসিং এলাকার সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ ব্লকে যান মাহফুজুল হক। সেখানে পৌঁছানোর পর দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাহফুজুল হককে মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পাশে তার গাড়িটি তখনও চালু অবস্থায় ছিল। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফিলাডেলফিয়া পুলিশের চিফ ইন্সপেক্টর স্কট স্মল জানান, ঘটনাস্থল থেকে রাইফেলের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিহতের শরীরের পাশেই তার ডোরড্যাশের ডেলিভারি ব্যাগটি পাওয়া গেছে। তদন্তকারী দল ওই ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে যে, ভুক্তভোগী যে ঠিকানায় খাবার দিতে গিয়েছিলেন, সেখানকার বাসিন্দারা কোনো খাবার অর্ডারই করেননি। এ থেকে পুলিশ ধারণা করছে, মাহফুজুল হককে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই মুখোশধারী তিনজনকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া ঘটনাস্থলের কাছেই কয়েকটি মোবাইল ফোন ও খাবারের ব্যাগ পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এদিকে প্রবাসে এমন হত্যাকাণ্ডে ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে গত মাসেও নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়ায় একইভাবে একজন পিৎজা ডেলিভারি ড্রাইভারকে লক্ষ্য করে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। ডেলিভারি কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রবাসীরা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

নিহত মাহফুজুল হক এর আগে উইলো গ্রোভ এলাকার আল-শাম রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে পরিশ্রমী এই মানুষটি স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও কমিউনিটির মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ দেশে পাঠানো হবে নাকি যুক্তরাষ্ট্রেই দাফন করা হবে, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এএম