গবেষণা সংস্থাটির মতে, ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে এ ক্যাটাগরির ফোন বিক্রি আগের বছরের চেয়ে অন্তত ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। আগামী প্রবৃদ্ধির এ ত্বরান্বিত হার দেখে ধারণা করা হচ্ছে, পরবর্তী ১০ কোটির মাইলফলকটি স্পর্শ করতে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারের সময় লাগবে মাত্র তিন বছর।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, স্মার্টফোনের মূলধারার বাজারে ফোল্ডেবল ফোন এখনো প্রায় ২ শতাংশ দখল করে আছে। অর্থাৎ সামনে এ ক্যাটাগরির আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে সবার উপরে রয়েছে স্যামসাং। অন্যদিকে ভিন্ন ডিজাইন দিয়ে চীনের বাজারে এখনো নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে হুয়াওয়ে।
এদিকে, প্রযুক্তিপ্রেমী প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য ফোল্ডেবল ইকোসিস্টেমে নিয়ে আসতে প্রস্তুতি নিচ্ছে অ্যাপল। বাজারে পিছিয়ে নেই অন্য প্রস্তুতকারকরাও; শাওমিও শিগগিরই আনতে যাচ্ছে ‘শাওমি ১৮ ফোল্ড’। পাশাপাশি মটোরোলা, অনার, গুগল, ভিভো ও অপোও নতুন মডেলের চওড়া ফোল্ডেবল স্মার্টফোন নিয়ে কাজ করছে।
২০২৭ সালে ফোল্ডাবল বাজারের এ গতি আরও জোরদার হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হতে পারে অ্যাপলের পূর্ণাঙ্গ উপস্থিতি। পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ২০২৭ সালে অ্যাপলের ফোল্ডেবল শিপমেন্ট দ্বিগুণেরও বেশি হবে এবং কোম্পানিটি ফোল্ডাবল বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ শেয়ার নিজের দখলে নেবে।
পাশাপাশি স্যামসাংয়ের ‘গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮’ এবং হুয়াওয়ের ‘পুরা এক্স ম্যাক্স’-এর সাফল্য প্রমাণ করে যে গ্রাহকদের আগ্রহ এখন চওড়া বুক-টাইপ ফোল্ডেবলের দিকেই বেশি।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের রিসার্চ ডিরেক্টর তরুণ পাঠাক জানান, প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজারে অ্যাপলের উপস্থিতি প্রতিযোগিতা আরও বাড়িয়ে দেবে। তবে পুরো স্মার্টফোন বাজারের তুলনায় ফোল্ডেবলের অংশ এখনো খুবই সীমিত, ফলে এখানে বিশাল প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়ে গেছে।
স্যামসাংয়ের উদ্ভাবন, চীনের বাজারে হুয়াওয়ের শক্ত অবস্থান এবং নতুন ব্র্যান্ডগুলোর বৈচিত্র্যময় ডিজাইন পুরো খাতটির পরিধি দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, অ্যাপল বাজারে আসা মাত্রই বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। কাউন্টারপয়েন্টের হিসেব অনুযায়ী, ২০২৬ সালেই প্রায় ৬০ লাখ ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে পাঠাতে পারে অ্যাপল।
ফলে প্রথম বছরেই বিশ্ব ফোল্ডেবল বাজারের ২৫ শতাংশ শেয়ার দখল করে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। এই তালিকায় ৩৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ে শীর্ষে থাকবে স্যামসাং এবং ২২ শতাংশ শেয়ার নিয়ে তিন নম্বরে থাকবে হুয়াওয়ে।
তবে শুরুর দিকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহে কিছু ঘাটতি থাকতে পারে। উন্মোচনের পরপরই বড় পরিসরে উৎপাদন সম্ভব না হওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন অঞ্চলে এর সরবরাহ বাড়ানো হবে।
এ বিষয়ে কাউন্টারপয়েন্টের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর লিজ লি বলেন, ‘প্রাথমিক উৎপাদনে কিছুটা সীমাবদ্ধতার কারণে ২০২৬ সালে অ্যাপলের সর্বোচ্চ শিপমেন্ট পূর্বাভাস ধরা হয়েছে ৬০ লাখ ইউনিট। তবে বাজারে পৌঁছানোর কম সময় পেলেও অ্যাপল ২৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে সরাসরি ২ নম্বর স্থানে উঠে আসবে বলে আমাদের ধারণা, যা ফোল্ডেবল ক্যাটাগরিতে অ্যাপলের শক্ত অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।’
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহ্যবাহী সাধারণ ফোনের চেয়ে ফোল্ডেবল ফোনের দাম এখনো প্রায় তিনগুণ বেশি। তাই সাধারণ গ্রাহকের ঘরে ঘরে এ ফোন পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তবে ব্যবহারকারীদের নানামুখী অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করাই হবে ফোল্ডেবল খাতের প্রধান চালিকাশক্তি, যা কর্মদক্ষতা ও কন্টেন্ট উপভোগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।





