রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সাগরতীরে প্যাডেল বোর্ডিং আর কায়াকিংয়ে মেতে ছিল পুরো পরিবার। কী ঝড় আসতে চলেছে, জানা ছিল না কারো।
ঘটনাস্থল ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণে জিওগ্রাফি বে। মা আর তিন ভাইবোন ভেসে বেড়াচ্ছিলেন সাগরে। হঠাৎ দমকা বাতাস আর তীব্র স্রোতের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূল পথ থেকে অনেকটা সরে যান তারা।
পরিবারকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠে ছেলেটি। মা আর ছোট দুই ভাইবোনকে বাঁচাতে উদ্ধারকারীদের সাহায্য চাইতে, নিজের কায়াকটি নিয়ে দ্রুত তীরে ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। নৌকায় পানি উঠে যাওয়ায় সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
আরও পড়ুন:
এরপর আক্ষরিক অর্থেই পরিবারের রক্ষাকর্তা হয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে সদ্য কৈশোরে পা রাখা ১৩ বছরের ছেলেটি। জীবন বাজি রেখে বাকি পথ, প্রায় চার কিলোমিটার সাঁতরে পৌঁছায় সৈকতে। প্রথম দু'ঘণ্টা লাইফ জ্যাকেট পরে সাঁতার কাটলেও, ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে তীরে পৌঁছাতে সেটি খুলে ফেলে দিয়েই পাড়ি দেয় আরও দু'ঘণ্টার পথ।
সোমবার পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় তীরে পৌঁছে প্রশাসনকে এ বিষয়ে অবহিত করে ছেলেটি। পরে তার মা ও দুই ভাইবোনের সন্ধানে শুরু হয় অভিযান। রাত প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে ৪৭ বছর বয়সী মা, ১২ বছর বয়সী আরেক ছেলে আর আট বছরের মেয়েটিকে তীর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে শনাক্তে সক্ষম হয় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।
পুরো পরিবারকে সফল ও সুস্থভাবে মা আর ভাইবোনদের উদ্ধারের ঘটনায় বীরোচিত তকমা পাচ্ছে ছোট্ট ছেলেটি। অতিমানবীয় কিশোর আখ্যা দিয়েও প্রশংসা কম পড়ে যাচ্ছে বলে জয়ধ্বনি সারা দেশে।





