উপসাগরীয় সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলবাজারে ‘ভয়াবহ’ পরিণতি: সৌদি আরামকো প্রধান

সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের
বিদেশে এখন
0

উপসাগরীয় সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে তেলবাজারে ‘ভয়াবহ’ পরিণতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের। ইন্ডিয়া টুডের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আজ (মঙ্গলবার, ১০ মার্চ) ২০২৫ সালের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এ বিঘ্ন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলের তেল ও গ্যাস খাতের জন্য সবচেয়ে গুরুতর সংকট।  তিনি আরও বলেন, ‘অতীতেও আমরা বিঘ্নের মুখে পড়েছি, কিন্তু এটি অঞ্চলটির তেল ও গ্যাস শিল্পের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংকট।’

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উপসাগরে উত্তেজনা বেড়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল—যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ—পরিবাহিত হয়।

আরও পড়ুন:

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘এক লিটার তেলও’ পাঠাতে দেবে না তারা। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কৌশলগত এই জলপথে তেল প্রবাহে হস্তক্ষেপ করলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর জবাব দেবে।

এরইমধ্যে উপসাগরে জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে; সরবরাহ–সংকটের আশঙ্কায় একপর্যায়ে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠে। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ; এ পথ দিয়ে যাওয়া তেলের প্রায় ৮৪ শতাংশ এশিয়ার বাজারে যায়, ফলে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরু এ নৌপথে আংশিক বিঘ্নও বৈশ্বিক সরবরাহ টানটান করে তুলতে পারে এবং দামে বড় ওঠানামা তৈরি করতে পারে; বিকল্প রুট সীমিত হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী বন্ধ বা কঠোর বিধিনিষেধ বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহে বড় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

এএম