ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল আদমশুমারি শুরু করেছে ভারত

প্রতীকী ছবি
বিদেশে এখন
0

১৫ বছরেরও বেশি সময় পর আনুষ্ঠানিকভাবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল আদমশুমারি শুরু করেছে ভারত। আনুষ্ঠানিক গণনার মধ্যে দিয়ে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে জোর দিতে চায় নয়াদিল্লি। নতুন এই জনশুমারির ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তালিকা হাল নাগাদ ও কোভিড পরবর্তী সময়ে অভিবাসী শ্রমিকদের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অকেজো ও পুরনো তথ্যের বিড়ম্বনা ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে অনিয়ম ঠেকাতেও কাজে আসবে নয়া এই তালিকা।

১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের বিপরীতে ৩ লাখ কর্মকর্তা আর ৩৩টি প্রশ্ন- ২০১১ সালের পর ১লা এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল আদমশুমারি শুরু করলো ভারত। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ৭টি জনশুমারি চালালেও ১৫ বছরের বেশি সময় পর শুরু হওয়ার এই গণনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চায় নয়াদিল্লি।

২০২৩ সালে চীনকে ছাপিয়ে আনুমানিক ১৪৭ কোটির জনসংখ্যা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ভারত। ২৮ বছর গড় বয়স নিয়ে তারুণ্যের বিশাল শক্তিতে সমৃদ্ধ দেশটি জনশক্তির দিক থেকে টেক্কা দিতে পারে চীন বা ইউরোপকেও, যেখানে তাদের দেশে গড় বয়স ৪০-এর কাছাকাছি।

জনশুমারি ২০২৭ এর এই কর্মযজ্ঞে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৩০ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে। যারা এবারই প্রথম কাগজের বদলে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবেন। ১ এপ্রিল থেকে প্রথম ১৫ দিন নাগরিকরা চাইলে নিজেরাই অনলাইনে তথ্য জমা দিতে পারবেন। পরবর্তীতে গণনাকারীরা সশরীরে উপস্থিত হবেন নির্দিষ্ট অঞ্চলে।

আরও পড়ুন:

এই পর্যায়ের প্রথম ধাপ হবে ঘরবাড়ি তালিকাভুক্তকরণ এবং আবাসন শুমারি। দ্বিতীয় ধাপে সরাসরি শুরু হবে জনসংখ্যা গণনা, যা শুরু হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে। যেখানে জোর দেয়া হবে, শিক্ষা, অভিবাসন, প্রজনন হার ইত্যাদি বিষয়ে।

শুরুতে ৩৬টি প্রদেশ ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৭ হাজারেরও বেশি মহকুমা, ৯ হাজার ৭শ'র বেশি শহর এবং ৬ লাখ ৪০ হাজার গ্রাম জুড়ে পরিচালিত হবে এই শুমারি।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০১১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের সুবিধা বঞ্চিতদের নির্বাচন করলে অনেক যোগ্য মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। নয়া-শুমারি অকেজো ও পুরনো তথ্যের ঝুঁকি থেকে সরকারকে উদ্ধার করতে পারবে। গেল ১৫ বছরে, বিশেষ করে কোভিড পরবর্তী সময়ে ভারতের জনবসতি ও নগর কাঠামোর ধরনে বিশাল পরিবর্তন এসেছে যা হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখছে নয়াদিল্লি।

এছাড়াও অভিবাসী শ্রমিক ও অদৃশ্য জনসংখ্যার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় শহরের নতুন জনঘনত্ব অনুযায়ী স্কুল, হাসপাতাল বা স্যানিটেশন ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে গেছে- নতুন শুমারির মধ্য দিয়ে যা সংস্কার করতে চায় ভারত।

ইএ