সমঝোতায় আসতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, ট্রাম্পের হুমকি

প্রতীকী ছবি
বিদেশে এখন
0

চলমান সংঘাত নিরসনে এখনও কোনো সমঝোতায় আসতে পারে নি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। শান্তি আলোচনার কথা বললেও পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করে নি তারা। এরিমধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির অভিযোগ, যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আসে তখনই যুক্তরাষ্ট্র বেপরোয়া সামরিক অভিযানের পথ বেছে নেয়। এদিকে, সংঘাত নিরসনে ইরান প্রস্তাবিত চুক্তিতে রাজি না হলে প্রজেক্ট ফ্রিডম প্লাস পুনরায় শুরুর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কথা দিয়ে যুদ্ধে জেতার যদি কোনো কৌশল থাকতো তাহলে সেখানে সবার আগেই জয়ী হতেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেননা যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপের চাইতে কথার ফুল ঝুড়িতে ব্যস্ত তিনি। বর্তমান এ পরিস্থিতি বন্ধের লক্ষ্যে ট্রাম্প বরাবরই বলে শিগগিরই তেহরানের সঙ্গে তাদের একটা সমঝোতা চুক্তি হবে।

উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে সুর মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধে নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে ইরান দ্রুতই সদুত্তর দিবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণকে স্বাভাবিক করে তোলাটা একদিকে যেমন বেআইনি, তেমনই এটি একটি অগ্রহণযোগ্য বিষয় এবং বিশ্বকে নিজেকেই প্রশ্ন করতে হবে যে, ইরান যদি কোনো আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে, তাহলে তারা কী করতে প্রস্তুত? আমি মনে করি এটা অগ্রহণযোগ্য।

যুদ্ধাবস্থা নিরসনের এমন কথার লড়াই চললেও হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত আছে। এছাড়া ওমান উপসাগরে বিশেষ অভিযান চলাকালে একটি তেল ট্যাঙ্কার আটক করার দাবি করেছে করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বন্দরে প্রবেশের সময় দুটি ট্যাঙ্কারকে অচল করে দিয়েছে তারা।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তিনটি ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে দেশটির নেতাদের বদ্ধ উন্মাদ বলে অভিহিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি সংঘাত নিরসনে ইরান প্রস্তাবিত চুক্তিতে রাজি না হলে প্রজেক্ট ফ্রিডম প্লাস পুনরায় শুরুর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড।

উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বলেন, যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আসে তখনই যুক্তরাষ্ট্র বেপরোয়া সামরিক অভিযানের পথ বেছে নেয়। সেই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলাকে চাপ প্রয়োগের স্থূল কৌশল বলেও অভিহিত করেন আরাঘচি।

এদিকে চলমান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের প্রভাবকে পারমাণবিক বোমার সঙ্গে তুলনা করেছেন ইরানের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নতুন সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোকবের।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোকবের বলেন, আমরা বছরের পর বছর ধরে হরমুজ প্রণালির সুবিধাটিকে উপেক্ষা করেছি। প্রকৃতপক্ষে, এটি একটি পারমাণবিক বোমার সমতুল্য সক্ষমতা। যখন আপনি এমন একটি অবস্থানে থাকেন যেখান থেকে একটিমাত্র সিদ্ধান্ত সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে, তখন এটি অত্যন্ত শক্তিশালী সক্ষমতা। এই যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করেছি, তা আমরা কোনোভাবেই ছেড়ে দেব না।

এমতাবস্থায়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় গুরুতর আহত দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

এরইমধ্যে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে জাতিসংঘে আনা খসড়া প্রস্তাব থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া।

ইএ