বৈরুত বিমানবন্দরে হামলার আতঙ্ক; বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ

বৈরুতের রাফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পথে লেবাননের মিডল ইস্ট এয়ারলাইন্সের বিমান
বিদেশে এখন
0

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ‘মিডল ইস্ট এয়ারলাইন্স’ (এমইএ)-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ অডিট বা নিরীক্ষা শুরু করেছে দেশটির এভিয়েশন রেগুলেটর। পাইলটদের পক্ষ থেকে আনা কিছু গুরুতর অভিযোগের পর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিমানকর্মীদের জোর করে সংঘাতপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফ্লাইট চালাতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং কোনো নিরাপত্তা ত্রুটির কথা জানালে তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রয়টার্সের হাতে আসা কিছু চিঠিপত্র থেকে জানা যায়, বৈরুতভিত্তিক এই বিমান সংস্থাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পাইলট ইউনিয়নগুলোর বৈশ্বিক ফেডারেশন ‘ইফালপা’ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের ফলে অনেক বিদেশি এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এড়িয়ে চললেও এমইএ তাদের ফ্লাইট চালু রেখেছে। এমনকি বৈরুত বিমানবন্দরের কাছাকাছি ইসরাইলি বিমান হামলা হওয়া সত্ত্বেও তারা উড্ডয়ন অব্যাহত রেখেছে, যা অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি বলে মনে করছে ইফালপা।

ইফালপা-র প্রেসিডেন্ট রন হে লেবাননের সেন্ট্রাল ব্যাংককে (যারা এমইএ-র বড় অংশীদার) লেখা এক চিঠিতে বলেন, ‘অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন যুদ্ধের মধ্যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফ্লাইট চালানো বীরত্বের কাজ, কিন্তু আমরা একে কাণ্ডজ্ঞানহীন ঝুঁকি বলে মনে করি।’ তবে এমইএ দাবি করেছে, তাদের নিরাপত্তার রেকর্ড অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সরকারের নির্দেশনা মেনেই তারা ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

লেবাননের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (এলসিএএ) প্রধান মোহাম্মদ আজিজ জানিয়েছেন, তার টিম এমইএ-র নিরাপত্তা অডিট করবে এবং পাইলটদের তোলা অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করবে। এমইএ কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, ১৮ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত চালানো তদারকিতে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে যে, পাইলটদের আর্থিক প্রলোভন দিয়েও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করানো হচ্ছে। লেবাননের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বেতন কমে যাওয়ায় তারা উড্ডয়ন প্রতি যে বাড়তি ভাতা পান, তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কোনো পাইলট যদি নিরাপত্তার কথা ভেবে ফ্লাইট চালাতে অনীহা প্রকাশ করেন, তবে তাকে ‘প্রশিক্ষণে’ পাঠিয়ে দেয়া হয়, যার ফলে তিনি ওই বাড়তি ভাতা থেকে বঞ্চিত হন। একে এক ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন পাইলটরা।

এছাড়া আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ইফালপা অভিযোগ করেছে যে, লেবাননের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির যেসব কর্মী বিমান নিরাপত্তার দেখভাল করেন, তাদের বেতন বা আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে খোদ এমইএ। রয়টার্সের হাতে আসা নথিতে দেখা গেছে, এলসিএএ-র অন্তত তিন জন নিরাপত্তা কর্মীসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা এয়ারলাইন্সটির কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। এর ফলে সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমইএ অবশ্য দাবি করেছে, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের বেতন ৯৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় তারা মানবিক কারণে এই সহায়তা দিচ্ছেন এবং এটি তাদের নিরপেক্ষতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

এএম